
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম নেতা হাজী শহীদুল হক পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি আসন্ন এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় এবং গণসংযোগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে আলোচনা চলছে যে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাজী শহীদুল হক। তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি এনায়েতনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একজন শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
রাজনীতিতে ছাত্রদল থেকেই তাঁর উত্থান। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতেও ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় থেকে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শিক নেতা হিসেবেই পরিচিত।
সমর্থকদের ভাষ্য, শহীদুল হক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী একজন রাজনৈতিক কর্মী। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি দলীয় আদর্শকে ধারণ করে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা কার্যক্রম এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।
এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় জনসাধারণের সুখ-দুঃখে অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন বলেও অনেকে উল্লেখ করেন। ফলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের একটি অংশ তাঁকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
শহীদুল হকের সমর্থকরা মনে করেন, স্থানীয় সরকারের প্রকৃত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে একজন সৎ, শিক্ষিত, দক্ষ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাদের দাবি, হাজী শহীদুল হক সেই যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ধারণ করেন। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এনায়েতনগর ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ, মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে অগ্রাধিকার দেবেন।
সমর্থকদের মতে, হজ পালন শেষে দেশে ফিরে তিনি নতুন উদ্যমে জনগণের সেবায় নিজেকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি আধুনিক, উন্নত ও সুশাসনভিত্তিক ইউনিয়ন গড়ে তোলাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য।
তবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার বিষয়ে হাজী শহীদুল হকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, দলীয় সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন তিনি।
এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে এনায়েতনগরে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হাজী শহীদুল হকের নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউনিয়নবাসীর একটি অংশ এখন অপেক্ষা করছে, শেষ পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন কি না। এর আগে শহীদুল হক নিজে জানিয়েছিলেন তিনি বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন।







