
রফিকুল ইসলাম জীবন
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনপুর থেকে মদনগঞ্জ সড়কজুড়ে ভোরবেলার সময় এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফজরের নামাজের আজানের আগে থেকে শুরু করে নামাজ ও জামায়াত শেষ হওয়ার পর পর্যন্ত সময়কে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নারী, মুসল্লী, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ছিনতাই চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভোরের অন্ধকারে কয়েকজনের ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ছিনতাইকারীরা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়া কিংবা নামাজ শেষে বাড়ি ফেরা মুসল্লীদের পথরোধ করে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের স্বর্ণালংকারও কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, শুধু পথচারী নয়, সড়কের পাশে থাকা ছোট দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও এ চক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সুযোগ পেলেই দোকানে ঢুকে ক্যাশবাক্সের টাকা লুট করে নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তাদের আশঙ্কা, অভিযোগ করলে পরে আরও বড় ধরনের হয়রানি বা হামলার শিকার হতে হতে পারে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান খুব কমই দেখা যায়। মাঝেমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত নতুন সদস্য নিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে চক্রটি।
এলাকাবাসীর দাবি, এই অপরাধড়ো কোনো না কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাই শুধু মাঠপর্যায়ের ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের পেছনে থাকা আশ্রয়দাতা ও কথিত গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হওয়া সত্ত্বেও ভোরবেলায় পুলিশের টহল খুবই সীমিত। যে সময়টিতে সবচেয়ে বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, ঠিক সেই সময়েই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চোখে পড়ে। ফলে অপরাধড়ো প্রায় নির্বিঘ্নে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
সচেতন মহল বলছে, একটি এলাকায় একই ধরনের অপরাধ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে সেটি শুধু অপরাধীদের সাহসিকতার বিষয় নয়; বরং আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। ভোরবেলায় নিয়মিত মোবাইল টহল, সাদা পোশাকে নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং অপরাধী চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
এলাকাবাসী অবিলম্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মদনপুর থেকে মদনগঞ্জ সড়ককে ছিনতাইমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা অপরাধী চক্রের নেপথ্যে থাকা সকল ব্যক্তি ও কথিত গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।







