
বাংলাদেশ টেক্সটাইল ডাইজ অ্যান্ড কেমিক্যাল মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদ থেকে মোজাম্মেল হককে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফের বিরুদ্ধে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির পুত্রের নির্দেশে এবং যুবদল নেতার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে এমনটি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী। তাদের অভিযোগ, কোনো প্রকার নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন ছাড়াই সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ১৮ জন ডিরেক্টর নিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই একটি নির্দিষ্ট বলয়ের লোক। মূলত বিভিন্ন বাহানায় আগামীতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি করার লক্ষ্যেই এই সাজানো পকেট কমিটি করা হচ্ছে বলে চরম হতাশা ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিদায়ী সভাপতি মোজাম্মেল হক একজন অত্যন্ত সজ্জন ও ভালো মানুষ ছিলেন। কিন্তু স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির নিকটাত্মীয় তথা মোজাফফর কন্ট্রাক্টরের নাতি আব্দুল্লাহ আল বাপ্পীকে এই চেয়ারে বসানোর জন্য মোজাম্মেল হককে সুকৌশলে ও চাপের মুখে সরিয়ে দেওয়া হয়। লোকদেখানো গোপন ব্যালটের ভোটের কথা বলা হলেও ১৮ জন ডিরেক্টরের সবাই নিজস্ব বলয়ের হওয়ায় মোজাম্মেল হক কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাননি। আর এই কারণেই তিনি সভাপতি পদে লোক দেখানো সেই নির্বাচনে অংশ নেননি।
তবে ‘জোরপূর্বক’ সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিদায়ী সভাপতি মোজাম্মেল হক নিজেই। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার মেয়াদকাল শেষ হয়ে গেছে। তাই আমি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিয়েছি।” যদিও সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, মোজাম্মেল সাহেব অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি এবং কোনো ঝামেলা বা দ্বন্দ্বে জড়াতে চান না দেখেই মূল ঘটনা আড়াল করে ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ’ করার কথা বলছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল বাপ্পী বলেন, “তিনি (মোজাম্মেল হক) আমার মামা মানুষ। তাঁকে সরানো হবে কেন? আর আমাকে এখনো সভাপতি করা হয়নি। কেবল আলোচনা চলছে, ডিরেক্টররা যা ভালো মনে করবেন, তা-ই করবেন।”
এদিকে ঘটনার মূল কেন্দ্রে থাকা যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ চাপ প্রয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “ভাই, চাপ প্রয়োগ করে সরানোর তো কোনো বিষয় না। এটা একটা জাতীয় সংগঠন। এর নেতৃত্ব নিয়ে কিছুটা ঝামেলা হচ্ছিল, বর্তমান সভাপতি মোজাম্মেল সাহেবকে অনেকেই মানতে চাচ্ছিলেন না। তখন আমাকে ‘উপর মহল’ থেকে বলা হয়েছে বিষয়টি সমাধানের জন্য। যেহেতু আমি ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনে আছি এবং তারা আমাদের পার্শ্ববর্তী সংগঠন, তাই সেখানে সমস্যা হওয়াটা খারাপ দেখায়। আমরা মোজাম্মেল সাহেবকে গোপন ব্যালটের নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছিলাম, কিন্তু তিনি নেননি। ফলে বাপ্পী ছাড়া তো আর কেউ ছিল না।”
কী সমস্যা হচ্ছিল এবং ‘উপর মহল’ থেকে ঠিক কে বা কারা ফোন দিয়েছিল-এমন প্রশ্নের জবাবে যুবদল নেতা জোসেফ সুনির্দিষ্ট কোনো নাম প্রকাশ না করে বলেন, “উপর মহল থেকে কে ফোন দিয়েছে সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে যে বা যারাই ফোন করুক না কেন, তারা বলেছে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান করার জন্য।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই তথাকথিত সমাধানের আড়ালে মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়িক সংগঠনটিকে কুক্ষিগত করা হয়েছে, যা আগামীতে নারায়ণগঞ্জের ডাইজ ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।







