ছাত্র হত্যা মামলার আসামি, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিনকে খুঁজছে পুলিশ

86
ছাত্র হত্যা মামলার আসামি, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন মেম্বারকে খুঁজছে পুলিশ
ছাত্র হত্যা মামলার আসামি, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন মেম্বারকে খুঁজছে পুলিশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার একাধিক মামলার আসামি বক্তাবলী ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দিন মেম্বার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি শামীম ওসমানের একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই মেম্বার বর্তমানে আওয়ামীলীগকে পুনরায় সংগঠিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, একাধিক হত্যা মামলার এই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লা মডেল থানায় দায়েরকৃত একাধিক হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় আসামী হিসেবে নাম রয়েছে মহিউদ্দিনের। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের আসামি করা হয়েছে। ফতুল্লার রাধানগর এলাকার আফাজ উদ্দিনের ছেলে মহিউদ্দিন মেম্বার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহিউদ্দিন মেম্বারের পরিবার পারিবারিকভাবেই কট্টর আওয়ামীপন্থী। তার বাবা দীর্ঘ ১৮ বছর বক্তাবলী আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার রাজনৈতিক প্রভাব এবং সাবেক এমপি শামীম ওসমানের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে মহিউদ্দিন নিজেও ফতুল্লা ও বক্তাবলী এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। স্বৈরাচার সরকারের আমলে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি এবং বিরোধীদের দমনে তার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন মহিউদ্দিন মেম্বার আত্মগোপনে ছিলো। পরে আবার এলাকায় ফিরে এসে নানা অপকর্ম শুরু করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোপনে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন মহিউদ্দিন। এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলটিকে পুনরায় সংগঠিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

এদিকে, একাধিক হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার এই দাগী আসামিকে গ্রেফতারে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলছে,
ছাত্র-জনতা হত্যায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

বক্তাবলীর সাধারণ ছাত্র-জনতা ও সচেতন মহলের দাবি, ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত শামীম ওসমানের এই দোসরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একজন হত্যা মামলার আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে দল গোছানোর যে চক্রান্ত করছে, তা দ্রুত নস্যাৎ করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিহ্নিত এই আওয়ামী দোসর মহিউদ্দিন কিভাবে এলাকায় থেকে নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করা চেষ্টা করছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। পুলিশের ভুমিকা নিয়ে অসন্তেষ প্রকাশ করেন তারা।