মুখোশ পড়ে আ.লীগের মিছিলে ধরা: বিএনপি নেতাদের নাম বিক্রি করে পেলেন ছাড়া!

108
ঢাকায় মুখোশ পড়ে আওয়ামী লীগের মিছিলে পুলিশের হাতে আটক বক্তাবলীর বিতর্কিত রশিদ মেম্বার।
ঢাকায় মুখোশ পড়ে আওয়ামী লীগের মিছিলে পুলিশের হাতে আটক বক্তাবলীর বিতর্কিত রশিদ মেম্বার।

ছাত্র-জনতা হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি সেই রশিদ এবার ঢাকার রাজপথে মুখোশ পড়ে আওয়ামী লীগের মিছিলে গিয়ে ধরা পড়ে। তাকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।

আটক হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে তিনি ছাড়াও পেয়ে যান। নিজেকে বাঁচাতে গণমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন— নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ বিএনপি নেতারা ওসিকে ফোন দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে এনেছেন! তবে তার এই দাবিকে ‘ডাহা মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। খোদ বিএনপি নেতারাই বলছেন, রশিদের মতো একজন হত্যা মামলার আসামিকে তারা কেন ছাড়াতে যাবেন? নাম ভাঙিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়েছেন এই দাগী আসামি।

ভাইরাল ভিডিও ও রশিদের ‘আষাঢ়ে গল্প’ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির ডাকা কর্মসুচীতে ঢাকায় একটি ঝটিকা মিছিল বা জমায়েত থেকে আব্দুর রশিদ মেম্বারকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছে।

আটক হওয়ার পর কীভাবে ছাড়া পেলেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রশিদ দাবি করেন, “মুখোশ পড়া অবস্থায় আমাকে ধরে নিয়ে গেছে এটা ঠিক। তবে ওসি সাহেব নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন ভাই, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত ভাই, রিয়াদ চৌধুরী ভাই ও মশিউর রহমান রনি ভাইকে ফোন দেন। তাদের সাথে কথা বলার পর আমাকে ছেড়ে দেয়।”

ঢাকায় কেন গিয়েছিলেন এবং মুখে মাস্ক কেন ছিল— এই প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, “আমি একটি কাজে ঢাকায় গিয়েছিলাম। মাস্ক পরা অবস্থায় ছিলাম। তখন কয়েকজন ফর্মা (পুলিশের সোর্স) আমাদের জেরা করে। আমার বিরুদ্ধে যে চক্রটি লেগেছে, তারাই হয়তো এই কাজ করেছে।”

রশিদ মেম্বারের এই দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরী চরম বিস্ময় প্রকাশ করে রশিদের দাবিকে পুরোপুরি মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেন।

রিয়াদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি কেন তাকে ছাড়তে বলবো? তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলা রয়েছে, সে জেল খেটেছে— এটা তো আমি জানি। গতকাল রাত ১০টার দিকে পল্লবী বা মতিঝিল থানার ওসি আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। ওসি শুধু জানতে চেয়েছেন যে, সে আমাদের এলাকার কিনা এবং আমি তাকে চিনি কিনা? তখন আমি বলেছি, সে আমাদের এলাকার না, বক্তাবলীর মনে হয়। সে কী করে— এই প্রশ্নের উত্তরে আমি বলেছি, খোলার ব্যবসা করে বলে শুনেছি। ওসির সাথে আমার এতটুকুই কথা হয়েছে।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে রিয়াদ চৌধুরী আরও বলেন, “আমি কেন তাকে ছাড়তে বলবো? আর ওসি কি আমার কথায় তাকে ছেড়ে দেবেন নাকি? এখন কেউ যদি পুলিশের কাছে আমার নাম ভাঙায়, সেটা তো আর আমি জানি না। আজকেও তো রশিদ আমাকে কয়েকবার ফোন দিয়েছে, কিন্তু আমি ধরিনি। কারণ কোথায় গিয়ে সে আমার নাম ভাঙাবে কে জানে!”

রশিদ মেম্বারের এই মিথ্যাচার এবং বিএনপি নেতাদের নাম বিক্রির বিষয়টিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বক্তাবলীর এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রশিদ বিগত সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের পরিবারের একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবেই পরিচিত। ৫ আগস্টের পর খোলস পাল্টে নিজেকে বিএনপি দাবি করলেও, তিনি মূলত আওয়ামী লীগের ক্যাডার। ঢাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং পরিচয় লুকাতে মাস্ক পড়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন।

এলাকাবাসীর মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— আব্দুর রশিদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যাসহ প্রায় ১১টি ফৌজদারি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। যার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার চার্জশিট দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, তাকে ঢাকার পুলিশ আটক করার পরও কীভাবে ছেড়ে দিল?

বক্তাবলীর সচেতন মহলের দাবি, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতেই এই দাগী আসামি নির্লজ্জভাবে বিএনপি নেতাদের নাম বিক্রি করেছেন। অবিলম্বে এই ভাইরাল ভিডিওর তদন্ত করে এবং ১১টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এই আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।