যাদেরকে জনগন ভুলতে চায় তাদেরকে ভুলতে দিচ্ছে না কে?

59
যাদের জনগণ ভুলতে চায়, তাদের ভুলতে দিচ্ছে না কে?
যাদের জনগণ ভুলতে চায়, তাদের ভুলতে দিচ্ছে না কে?

রাজনীতিতে একটি বহুল প্রচলিত কথা রয়েছে আপনার বিরুদ্ধে যদি কেউ প্রচারও করে, সেটাও এক ধরনের প্রচার। ইতিহাস বলছে, অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রচারণা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করার পরিবর্তে উল্টো তাকে জনআলোচনার কেন্দ্রে ধরে রাখে। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বর্তমানে ওসমান পরিবারকে ঘিরে এমন একটি বিতর্কই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এক সময় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবার হিসেবে পরিচিত ওসমান পরিবার এখন দৃশ্যত রাজনৈতিক মঞ্চের বাইরে। সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা বর্তমানে জনসমক্ষে সক্রিয় নন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলোও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইন ও আদালতের বিষয় আদালতেই নিষ্পত্তি হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অপরাধী কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগই দেবে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রশ্ন হচ্ছে—নারায়ণগঞ্জের জনগণ কি এখনও ওসমান পরিবারকে নিয়ে ভাবছে, নাকি তাদেরকে অতীতের একটি অধ্যায় হিসেবে দেখতে শুরু করেছে?

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কিছু নেতার বক্তব্যে প্রায় প্রতিদিনই ওসমান পরিবারের নাম উঠে আসছে। কোনো সভা, সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক আলোচনা সবখানেই শামীম ওসমান বা ওসমান পরিবারের বিভিন্ন সদস্যকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে একটি প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে এতে কি সত্যিই ওসমান পরিবারের ক্ষতি হচ্ছে, নাকি উল্টো তাদের নাম জনমনে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে?

নারায়ণগঞ্জের অনেক সচেতন নাগরিক মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে কোনো শক্তি দুর্বল হয়ে গেলে স্বাভাবিক নিয়মেই জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায়। কিন্তু যখন প্রতিনিয়ত সেই শক্তির নাম উচ্চারিত হয়, তখন তারা আবারও আলোচনায় ফিরে আসে।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা এখন বর্তমান সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাই। শহরের যানজট জলাবদ্ধতা, শিল্প খাতের সংকট নাগরিক সেবা এসব নিয়ে আলোচনা বেশি দরকার। কিন্তু প্রতিদিন যদি একই পরিবারের নাম শুনতে হয়, তাহলে মানুষ তাদেরকে ভুলবে কীভাবে?

একজন তরুণ ভোটারের ভাষ্য, যারা ক্ষমতায় নেই বা মাঠে নেই, তাদের নিয়ে অতিরিক্ত কথা বললে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। এতে রাজনৈতিকভাবে লাভ-ক্ষতির হিসাব উল্টো হয়ে যেতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আধুনিক রাজনীতিতে নেগেটিভ ক্যাম্পেইন সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। বরং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ক্রমাগত আক্রমণ করা হলে তাদের নাম গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং জনআলোচনায় বারবার ফিরে আসে। ফলে যে রাজনৈতিক শক্তিকে মানুষ ভুলতে শুরু করেছিল, সেই শক্তিই আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

তাদের মতে, বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হওয়া উচিত নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং জনকল্যাণমূলক বার্তা জনগণের সামনে তুলে ধরা। অতীতের প্রতিপক্ষকে ঘিরে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে সেই প্রতিপক্ষই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়ে যেতে পারে।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন একটি প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে ওসমান পরিবারের রাজনৈতিক অধ্যায় কি সত্যিই শেষের পথে, নাকি তাদের বিরোধীরাই প্রতিনিয়ত তাদের নাম উচ্চারণ করে সেই অধ্যায়কে জীবিত রাখছেন?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, কোনো ব্যক্তিকে জনমনে জীবিত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো তাকে প্রতিনিয়ত আলোচনায় রাখা। আর সেই কাজটি যদি প্রতিপক্ষই করে, তাহলে লাভ-ক্ষতির হিসাব নতুন করে কষতে হয়।