ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও নৃশংস হত্যা, লেপ-তোষকে মোড়ানো লাশ উদ্ধার!

44
ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন হত্যা
ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন হত্যা

নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন তলানিতে। এবার মো. মোতালেব হোসেন (৬১) নামের এক প্রবীণ বিকাশ ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও, পুলিশ ভুক্তভোগীকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ফতুল্লা থানাধীন জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে তার লেপ-তোশকে মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং টহল পুলিশের ঢিলেঢালা ভাবকেই অপরাধীরা কাজে লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নিহত মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্তান এলাকার জাজিরা টাওয়ারে বসবাস করতেন এবং মাসদাইর বাজারে লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা করতেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার রাত থেকে মোতালেব হোসেন নিখোঁজ হওয়ার পর তারা ফতুল্লা মডেল থানায় একটি জিডি করেন। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয়রা সড়কের পাশে একটি লেপ-তোশকে মোড়ানো সন্দেহভাজন বস্তু দেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্টের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

হত্যার ধরণ দেখে শিউরে উঠেছেন স্থানীয়রা। ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বুধবারই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে এভাবে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে সড়কের পাশে লাশ ফেলে দিয়ে গেল অপরাধীরা, অথচ কেউ কিছুই টের পেল না? ফতুল্লায় অপরাধীদের এই দুঃসাহস দিন দিন যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়?

পুলিশের পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই জানানো হয়েছে যে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। তবে সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশ যদি জিডি করার পরপরই কঠোর টেকনিক্যাল নজরদারি ও দ্রুত অ্যাকশন নিত, তবে হয়তো একজন ব্যবসায়ীকে হয়তো এভাবে জীবন দিতে হতো না।