যুবদল নেতা রিয়াদের কাণ্ড: জোড়া খুনের আসামি জাহাঙ্গীরকে ‘সেক্রেটারি’ করে বিট পুলিশিং কমিটি! ওসি সাজেদুরের অস্বীকার

186
যুবদল নেতা রিয়াদের কান্ড: জোড়া খুনের আসামিকে নিয়ে কমিটি, ওসির অস্বীকার
যুবদল নেতা রিয়াদের কান্ড: জোড়া খুনের আসামিকে নিয়ে কমিটি, ওসির অস্বীকার

নারায়ণগঞ্জ নগরীর ১৬নং ওয়ার্ডে বিট কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন নিয়ে চরম তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাবুরাইলের আলোচিত জোড়া খুন মামলার প্রধান অভিযুক্ত ও এজাহারনামীয় আসামি জাহাঙ্গীর বেপারীকে সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারি) ঘোষণা করে বেশ কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর শহরজুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। তবে এই কমিটি গঠনের খবরকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ১নং সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদ।

গত বুধবার (১ জুলাই) বিকালে দেওভোগ আদর্শ বালক-বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় রাফি উদ্দিন রিয়াদকে সভাপতি ও বাবুরাইলের আলোচিত জোড়া খুন মামলার আসামি জাহাঙ্গীর বেপারীকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন এই কমিটি গঠনের খবর প্রকাশ পায়। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান।

একজন দুর্ধর্ষ হত্যা মামলার আসামিকে কীভাবে পুলিশের সহযোগী বিট পুলিশিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হলো—তা নিয়ে জানতে চাওয়া হয় সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজেদুর রহমানের কাছে। জবাবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আমি কোনো কমিটির অনুমোদন দেইনি বা গঠন করিনি।”

কমিটি অনুমোদন না দিলে গণমাধ্যমে কীভাবে এলো—এমন প্রশ্নে ওসির মন্তব্য, “সেটা সাংবাদিক ভাইরাই ভালো বলতে পারবেন।” তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “আমি সেখানে গিয়েছিলাম এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করতে। কোনো কমিটির অনুমোদন আমি দেইনি।”

ওসির এই মন্তব্যের পর আজ রাতে অভিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর বেপারীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি লাইনটি কেটে দেন এবং পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও আর কল রিসিভ করেননি।

এদিকে, এই কমিটির সভাপতি পদে বসা স্থানীয় যুবদল নেতা রাফি উদ্দিন রিয়াদকে পুরো বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর উল্টো ক্ষোভ ঝাড়েন। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে যুবদল নেতা রিয়াদ বলেন, “জাহাঙ্গীরের বিষয়ে কিছু হইলেই আপনে প্রথমে ফোন দেন? এটা কিসের মধ্যে, তা তো বুঝি না। আপনি সরাসরি এসে কথা বলেন। এই কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

এর আগে, ওসির অস্বীকার করার বিষয়টি মনে করিয়ে দিলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “যে সাংবাদিক নিউজ করছে, তার কাছে জানতে চান। ওসি সাহেব না করে থাকলে তার কাছে জানতে চান।” এই কথা বলেই তিনি ফোনটি কেটে দেন।

খোদ সদর থানার ওসির উপস্থিতিতে যুবদল নেতার এমন ‘বিতর্কিত কাণ্ড’ এবং হত্যা মামলার আসামিকে বিট পুলিশিংয়ের মতো সংবেদনশীল কমিটির চাবিকাঠি দেওয়ার এই চেষ্টাকে অপরাধীদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন ১৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ নগরবাসী।