
কুতুবপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে দেলপাড়া থেকে চিতাশাল পর্যন্ত মরণফাঁদে পরিণত হওয়া সড়কটির পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ। গতকাল নারায়ণগঞ্জ সমাচারে সড়কটির বেহাল দশা ও ৮-১০ লাখ মানুষের চরম ভোগান্তির সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। আজ সকালে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কাজের সূচনা হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে। দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জট কেটে দ্রুত কাজ শুরু করায় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন ও সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাত রুবেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী শহীদুল্লাহসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ বিভাগের (ডিপিডিসি) রাস্তা কাটার পর মেরামত না করা এবং এলজিইডির ধীরগতির কারণে কুতুবপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেহাল অবস্থায় পড়েছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি আর বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিদিন এখানে অটোরিকশা ও ইজিবাইক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছিল। এর আগে প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও কাজ শুরু না হওয়ায় সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাজপথে মানববন্ধন করেছিলেন। একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাজী শহীদুল্লাহর নিজস্ব অর্থায়ন ও পরিশ্রমে সাময়িকভাবে ইট-বালু ফেলে সড়কটি সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।
তবে সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে আজ থেকে স্থায়ী পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় পুরো কুতুবপুরবাসীর মাঝে আনন্দের হাওয়া বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল গণমাধ্যমে নিউজটি আসার পরই প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা থাকলে জনদুর্ভোগ কমানো সম্ভব।
কাজ শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, আমরা দীর্ঘদিন মরণফাঁদে বাস করছিলাম। আজ কাজ শুরু হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দ্রুত টেন্ডার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে মাঠপর্যায়ে কাজ নামানোর জন্য আমরা ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন এবং উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাত রুবেলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এখন আমাদের একটাই প্রত্যাশা, কাজের গুণগত মান বজায় রেখে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।







