২০ হাজার টাকা ধার না পেয়ে ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেবকে খুন, মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৩

23
ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ৩
ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ৩

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাসদাইর বাজারের “সুমাইয়া টেলিকম”-এর স্বত্বাধিকারী ও প্রবীণ বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ জাকির হোসেনসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে বিকাশ থেকে উত্তোলিত নগদ ৮৬ হাজার টাকা, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ৪টি মোবাইল ফোন, ভিকটিমের ব্যবহৃত ব্যাগ ও টিফিন ক্যারিয়ার।

গত ১ জুলাই সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে মাসদাইরের নিজ বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন ২ জুলাই ভোরে ফতুল্লার জামতলা এলাকার প্যারিসবাগেট সংলগ্ন সড়কের পাশে একটি তোষকে মোড়ানো অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি নিখোঁজ মোতালেব হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। সুরতহাল রিপোর্টে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার ১ নম্বর আসামি মোঃ জাকির হোসেন কিছুদিন আগে ব্যবসায়ী মোতালেবের কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। কিন্তু মোতালেব হোসেন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং একপর্যায়ে জাকিরকে চড় মারেন। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এবং মোতালেবের মোবাইলের বিকাশ অ্যাপস থেকে টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে জাকির ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ফতুল্লার মাসদাইরের শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার রোডের একটি ভবনের ৩য় তলায় আসামিদের ভাড়াটিয়া কক্ষে এই খুন করা হয়। পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য মৃতদেহ তোষক দিয়ে পেঁচিয়ে একটি পুরনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দিয়ে জামতলার প্যারিসবাগেটের পাশে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

ঘটনাটি জানাজানির পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। গত ২ জুলাই রাতে মাসদাইর ঈদগাহ এলাকা থেকে এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি মোঃ ওমর ফারুক (২২)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে মাসদাইর এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে ৬ নম্বর আসামি মোঃ সোহেল (৫১)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আজ ৩ জুলাই ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার ছেলসারদি এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মোঃ জাকির হোসেন (৪৭)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মূল আসামি জাকির হোসেন ইতিমধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত একটি টেকনো স্পার্ক অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি নকিয়া ফোনসহ দুইটি বাটন মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া লুণ্ঠিত নগদ ৮৬ হাজার টাকা, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর একটি চেক বই ও ভিসা কার্ড, ভিকটিমের দুপুরের খাবারের টিফিন ক্যারিয়ার এবং লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত পুরনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে।