
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, কাজ শুরু না হওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর দাবি, গত দুই বছরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও টেন্ডার সম্পন্ন হলেও অনেক এলাকায় এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। এর সুযোগে কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদার প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের আড়ালে অনিয়ম বা আর্থিক অসঙ্গতি ঘটছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিগত সরকারের সময়ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
একাধিক ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, অনেক প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছে বলে জানানো হলেও বাস্তবে কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। কোথাও নির্মাণসামগ্রী পৌঁছায়নি, কোথাও ঠিকাদারের কোনো কার্যক্রম নেই। ফলে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পরও উন্নয়ন কাজ কেন শুরু হচ্ছে না?
সচেতন মহলের মতে, শুধু প্রকল্প অনুমোদন বা টেন্ডার সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়; নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করে জনগণকে তার সুফল পৌঁছে দেওয়াই প্রকৃত উন্নয়নের মানদণ্ড। তাঁরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ, কাজের বর্তমান অগ্রগতি, বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার এবং ঠিকাদারদের দায়বদ্ধতা—সবকিছুই জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত।
স্থানীয়দের দাবি, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে গত দুই বছরে এলজিইডির আওতায় অনুমোদিত সব প্রকল্পের তালিকা, বরাদ্দ অর্থ, ঠিকাদারের নাম, কার্যাদেশ, বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং অর্থ পরিশোধের তথ্য প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে যেসব প্রকল্পে টেন্ডারের পরও কাজ শুরু হয়নি বা অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে, সেগুলো উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমনকারী সংস্থাগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে দ্রুত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করে জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।







