ইসহাক সরকারের পথ ধরে সোনারগাঁয়ে বিএনপি ছাড়ছেন নোবেল মীর? এনসিপিতে যোগ দেয়ার গুঞ্জন

65
বিএনপি ছাড়ার গুঞ্জনে নোবেল মীর, যোগ দিবেন এনসিপিতে?
বিএনপি ছাড়ার গুঞ্জনে নোবেল মীর, যোগ দিবেন এনসিপিতে?

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানের পর এবার নারায়ণগঞ্জের সোনাগাঁ উপজেলা রাজনীতিতে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। চাউর হয়েছে, ইসহাক সরকারের পথ ধরে সোনাগাঁ থানা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নোবেল মীরও কি বিএনপি ছাড়ছেন? দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্র ধরে নোবেল মীর এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন—এমন সমীকরণে মুখর স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকা ইসহাক সরকার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং গত ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ইসহাক সরকারের এই রাজনৈতিক ডিগবাজির পর থেকেই সোনাগাঁর নোবেল মীরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় রাজনীতিক ও সচেতন মহলের মতে, নোবেল মীরের এই সম্ভাব্য দলত্যাগের পেছনে রয়েছে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের আগামী নির্বাচন এবং পারিবারিক-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। মোহাম্মদ নোবেল মীর শম্ভুপুরা ইউনিয়ন থেকে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দাবিদার। তবে এই ইউনিয়নে তাঁর প্রতিপক্ষ খোদ তাঁর আপন মামা, শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি, এই ইউনিয়ন থেকে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা জাহাঙ্গীর আলমের বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।

দলীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, বর্ষীয়ান মামা জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন পাওয়ার তীব্র শঙ্কা থেকেই নোবেল মীর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। নিজের মামার বিরুদ্ধে এই বৈরী অবস্থান এবং বিএনপিতে কোণঠাসা হওয়ার আশঙ্কাই নোবেল মীরকে ইসহাক সরকারের দেখানো নতুন প্ল্যাটফর্ম এনসিপির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ নোবেল মীর বলেন, মনোনয়ন দিলেও বিএনপিতে আছি, না দিলেও বিএনপিতে থাকবো। দল ছাড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতিতে অবিচল থাকা সোনাগাঁ বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা মনে করেন, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ বা পারিবারিক কোন্দলের জেরে দলের প্রবীণ নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় এবং দল ছাড়ার চিন্তা করে, তারা মূলত সুবিধাবাদী। এখন দেখার বিষয়, নোবেল মীর শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলা ও প্রবীণ মামার নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য দেখান, নাকি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইসহাক সরকারের পথ ধরে এনসিপিতে যোগ দিয়ে নিজের নতুন রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করেন।