
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তারের নেতৃত্বে যখন দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কেটে নাগরিক সেবা স্বস্তিদায়কভাবে চলছে, ঠিক তখনই আবারও ইউনিয়নটিকে অস্থিতিশীল করার নতুন পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ১১ মামলার আসামি ও বিতর্কিত রশিদ মেম্বারের ইন্ধনে ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর মেম্বার এতদিন পর নতুন করে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন, যার মূল লক্ষ্য— ইউনিয়নের বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করে পুনরায় নাগরিক সেবা বন্ধ করা।
তবে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই নাগরিক সেবা ব্যাহত হতে দেবে না এবং বর্তমানের স্থিতিশীল পরিস্থিতিই বজায় রাখতে চায়।
জানা যায়, ৫ আগস্টের পর গঠিত প্যানেলের ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর মেম্বার এতদিন নিশ্চুপ থাকার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় সরকার, নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে একটি আবেদন করেছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) নিলুফা ইয়াসমিনের কাছে করা ওই আবেদনে তিনি জানতে চেয়েছেন— তাকে বাদ দিয়ে কেন ৩নং প্যানেল চেয়ারম্যান পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হলো?
দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় পর হঠাৎ করে তার এই আবেদন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক (উপসচিব) নিলুফা ইয়াসমিন আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এতদিন পর কেন এই আবেদন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আবেদন যে কেউ যেকোনো সময়ই করতে পারে। তবে, বারবার নাগরিক সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে আমাদের কঠোর দৃষ্টি আছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে একটি স্থিতিশীল (স্ট্যাবল) পরিস্থিতি বজায় আছে, আমরা চাই এটাই থাকুক। নাগরিকরা যাতে কোনোভাবেই কোনো সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। তিনি যেহেতু আবেদন করেছেন, আমরা দাপ্তরিকভাবে এর জবাব দিয়ে দেবো।”
হঠাৎ করে আলমগীর মেম্বারের এই আবেদনের পেছনে মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে বিতর্কিত রশিদ মেম্বারকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যাসহ ১১টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুর রশিদ। সম্প্রতি ঢাকায় মুখোশ পড়ে আওয়ামী লীগের মিছিল করতে গিয়ে তিনি পুলিশের হাতে আটক হন এবং পরে শীর্ষ বিএনপি নেতাদের নাম বিক্রি করে ছাড়া পান। নিজের ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে এবং বর্তমান চেয়ারম্যান পিংকি আক্তারের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে এই রশিদই এখন আলমগীর মেম্বারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। রশিদের উসকানিতেই আলমগীর মেম্বার এই আবেদন করেছেন, যাতে পিংকি আক্তারের কাজে বাধা সৃষ্টি করে বক্তাবলীর সাধারণ মানুষকে পুনরায় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত করা যায়।
রশিদ ও আলমগীরের এই নতুন ষড়যন্ত্রের খবর জানাজানি হলে বক্তাবলীর সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যেই মাত্র আমরা শান্তিতে জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য সেবা পেতে শুরু করলাম, অমনি দাগী আসামি রশিদ নতুন খেলা শুরু করেছে। এবার এ ধরনের ষড়যন্ত্র আমরা শক্ত হাতে মোকাবেলা করব। আমাদের নাগরিক সেবা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকেও আমরা অনুরোধ করব, তারা যেন কোনো দাগী আসামি বা তাদের দোসরদের ফাঁদে পা না দেয়।”
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে হলে রশিদ মেম্বার ও আলমগীর মেম্বারের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।







