
প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার বিশাল ভূখণ্ড ও মেগা প্রজেক্ট ‘পূর্বাচল নতুন শহর’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। সরকারের নিকার (NICAR) সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রূপগঞ্জ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য। স্থানীয় সচেতন মহল ও সচেতন রাজনৈতিক কর্মীরা মনে করছেন—নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ও রূপগঞ্জের ভৌগোলিক পরিচিতি হাতছাড়া হওয়ার পেছনে রূপগঞ্জের বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু)-র রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবই মূলত দায়ী।
জানা গেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী রাজউকের আওতাধীন পূর্বাচল প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর অংশের সীমানা কেটে সরাসরি ঢাকা জেলার অধীনে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভৌগোলিকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা তার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও আন্তর্জাতিকমানের মেগা প্রজেক্টের মালিকানা হারাতে বসেছে।
রূপগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণের অভিযোগ, পূর্বাচল প্রজেক্ট কেবল জমি নয়, বরং রূপগঞ্জের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। জেলার আয়তন ও সীমানা এভাবে হাতছাড়া হতে চললেও নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে দিপু ভূঁইয়া রূপগঞ্জের স্বার্থ রক্ষায় কোনো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেননি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—ঢাকার সাথে সীমানা পুনর্গঠনের এমন একটি বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চললেও রূপগঞ্জের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কেন এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ বা বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরলেন না? কেন তিনি রূপগঞ্জের সীমানা ও নারায়ণগঞ্জের স্বকীয়তা রক্ষা করতে পারলেন না?
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও একটি পুরো মেগা প্রজেক্ট জেলা থেকে বাদ পড়ে যাওয়া চরম প্রশাসনিক উদাসীনতাকেই ফুটিয়ে তোলে। রূপগঞ্জের জমি ও মানুষের ত্যাগের ওপর গড়ে ওঠা পূর্বাচল আজ ঢাকাবাসীর সম্পদ হতে চলেছে, আর রূপগঞ্জবাসী তাদের মৌলিক ভৌগোলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজনৈতিক নেতা বলেন, “সীমানা পুনর্গঠন যদি করতেই হতো, তবে রূপগঞ্জের প্রশাসনিক মর্যাদা বাড়িয়ে পূর্বাচলকে নারায়ণগঞ্জের অধীনেই পৃথক সিটি কর্পোরেশন বা বিশেষ অঞ্চল ঘোষণা করা যেত। কিন্তু সঠিক তদ্বির ও প্রতিবাদের অভাবে আজ নারায়ণগঞ্জের মানচিত্র ছোট হয়ে গেল।”
রূপগঞ্জের ভূখণ্ড ঢাকা জেলায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু)-র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বার্তা (মেসেজ) পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো মতামত পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জের ভৌগোলিক পরিচিতি রক্ষায় এমপি দিপু ভূঁইয়ার এমন নীরবতা ও ব্যর্থতা নিয়ে রূপগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।







