
বাবার সাথে নদীপাড়ে এসেছিল ঝালমুড়ি বিক্রিতে সাহায্য করতে। কিন্তু সামান্য একটু পা ধোয়ার ভুল ভেসে নিয়ে গেল ১০ বছরের ফুটফুটে শিশু ইমনের প্রাণ। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটে পা পিছলে ডুবে মারা গেছে ১০ বছর বয়সী এই মাদরাসা শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে নদী থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর ফায়ার সার্ভিসের একদল ডুবুরি। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ইমন পরিবার নিয়ে শাড়ুলিয়ার বড় ভাঙ্গা এলাকায় বসবাস করত। তার বাবা মিলন ও মা মমতা বেগম। সে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমন তার বাবার সাথে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে যায়। বাবা যখন ক্রেতাদের ঝালমুড়ি বানিয়ে দিতে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখন সুযোগ বুঝে ইমন নদীর ঘাটে নেমে পা ধুতে যায়। এসময় অসাবধানতাবশত ঘাটের পিচ্ছিল সিঁড়ি থেকে গভীর পানিতে পড়ে তলিয়ে যায় সে।
ছেলেকে আশেপাশে দেখতে না পেয়ে বাবা কান্নাকাটি ও খোঁজাখুঁজি শুরু করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই নদীপাড়ে শোরগোল পড়ে যায়। খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে।
সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার নিবিড় তল্লাশির পর নদী থেকে ইমনের নিথর দেহ উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসেন ডুবুরিরা।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে শীতলক্ষ্যার বাতাস। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।







