বন্দরে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

15
বন্দরে ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মাছুম মিয়া (৪৪)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাছুম মিয়া বন্দর থানাধীন কামতাল মেম্বার মার্কেটে অবস্থিত ‘আল্লাহুর দান ট্রেডার্স’ নামের একটি ব্যবসায়িক গোডাউনের মালিক। তার অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ স্ট্যান্ড সংলগ্ন আলী আকবরের চায়ের দোকানের সামনে অভিযুক্তদের সঙ্গে মাছুম মিয়ার দেখা হয়। এ সময় তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে পুনরায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লোহার রড, কাঠের ডাসা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্ত শাওন ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে মাছুম মিয়ার কপালের বাম পাশে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্য অভিযুক্তরাও তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর ও জখম করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় অভিযুক্ত নুরুজ্জামান ও রুমা বেগম তার কাছে থাকা ব্যবসার নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যান। তার চিৎকার শুনে চাচা মোক্তার হোসেন, তাওলাদ হোসেন ও সাখাওয়াত এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসা গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

এ ঘটনায় নুরুজ্জামান, রুমা বেগম, শাওন, আরিফ, সৈকত, সবুজ, কুয়াত প্রধান, হাসিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নুরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।