
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসনিক কার্যক্রমে ফুটপাত দখলমুক্তকরণসহ সামগ্রিক নগর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক তোলপাড় ও ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাহসী ভূমিকা নগরবাসীর নজর কেড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাত দখল, অবৈধ স্থাপনা, তীব্র যানজট ও অগোছালো নগর ব্যবস্থাপনা বড় সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান ছিল। নগরবাসীর দাবি, সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর টানা দীর্ঘ দুই দশকের (২০ বছর) দায়িত্বকালেও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ ও পূর্ণাঙ্গ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই ফুটপাত দখলমুক্তকরণের একটি যুগান্তকারী ও দৃশ্যমান উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, অনেকেই মনে করছেন বর্তমান প্রশাসকের উদ্যোগ বাস্তবায়নের গতি আগের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে চাষাঢ়াসহ প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
সড়কে চলাচলকারী একজন পথচারী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত হকার ও অবৈধ দখলে থাকার কারণে আমাদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন রাস্তা ও ফুটপাত ফাঁকা হওয়ায় কিছুটা হলেও পরিস্থিতি বদলেছে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা যাচ্ছে।” অন্যদিকে, এক ব্যবসায়ী জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত থাকলে ব্যবসার পরিবেশও শৃঙ্খলাপূর্ণ থাকে। তবে এই উদ্যোগ যেন লোকদেখানো না হয়ে নিয়মিতভাবে চালু থাকে, সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরাও।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, “নাসিকের মতো একটি জটিল নগর ব্যবস্থাপনায় এত দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সহজ কাজ নয়। আগের দীর্ঘ সময়েও এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি, তবে বর্তমান প্রশাসকের সময়ে যে গতি দেখা যাচ্ছে তা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য।” তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের ভালো উদ্যোগ টিকিয়ে রাখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং নাগরিকদের পূর্ণ সহযোগিতা একসঙ্গে প্রয়োজন।”
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাবেক মেয়র আইভীর দীর্ঘ প্রশাসনিক মেয়াদের সঙ্গে বর্তমান প্রশাসকের মাত্র কয়েক দিনের জাদুকরী কার্যক্রমের তুলনা এখন পুরো নগরজুড়ে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এই প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ওপর।







