৩৫ হাজার কোটি টাকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ বদলে দেবে দেশের অর্থনীতি

14
পদ্মা ব্যারেজ বদলে দেবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি
পদ্মা ব্যারেজ বদলে দেবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি সংকট, নদী বিপর্যয়, কৃষির ক্ষতি ও ভয়াবহ লবণাক্ততার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় মেগা প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি, শিল্প, নৌবাণিজ্য ও পরিবেশ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা হবে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর গত পাঁচ দশকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু নদ-নদী ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছিল কৃষি উৎপাদন, সংকুচিত হয়েছে নৌপথ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়ে থমকে গেছে শিল্পায়ন। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সবচেয়ে কার্যকর ও স্থায়ী কাঠামোগত সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে শুকনো মৌসুমেও পর্যাপ্ত মিঠা পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বরিশাল অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে যেসব জমিতে এক ফসলের বেশি চাষ করা যায় না, সেখানে আধুনিক সেচের মাধ্যমে দুই থেকে তিন ফসল উৎপাদনের বাস্তব সুযোগ তৈরি হবে। ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তেলবীজ ও সবজি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া, নাব্য হারিয়ে অচল হয়ে পড়া দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য নদী এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত হবে। নদীতে সারাবছর ন্যূনতম পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হলে পণ্য পরিবহনের ব্যয় এক ধাক্কায় অনেক কমে আসবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে গতি ফিরবে। একই সাথে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট মিটবে এবং মৎস্য ও চিংড়ি চাষে সুদিন ফিরবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পদ্মা সেতুর পর এই ব্যারেজ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি নতুন অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে উঠবে। পানি নিশ্চয়তা নিশ্চিত হলে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও কোল্ড স্টোরেজসহ অসংখ্য রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, যা জাতীয় উৎপাদন কাঠামোতে বড় অবদান রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক বৈষম্য ও দারিদ্র্য দূর করতে কাজ করবে।