
দেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, মন্দা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও এক নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন শিল্প মালিক ও সাধারণ শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বন্ধ ও রুগ্ন গার্মেন্টস কারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে বিশেষ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। সংশ্লিষ্ট মহলে এখন জোর আলোচনা, তাঁর এই তৎপরতায় দেশের পোশাক শিল্পে আবারও সুদিন ফিরতে পারে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকের পর নিটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ (BKMEA) এবং বিজিএমইএ (BGMEA) এর নেতারা রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রস্তুত এবং সংকট নিরসনে সম্ভাব্য নীতিগত সহায়তার খসড়া তৈরির কাজ দ্রুত শুরু করেছেন। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট, ডলার সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং কর জটিলতায় যেসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোকে কীভাবে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্তরের শিল্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় শুরু করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর বাস্তব চিত্র, শ্রমিক সংকট, আর্থিক দায় এবং উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়গুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সঙ্গে সরকারের কাছে দ্রুত একটি কার্যকর বাজেট ও নীতিগত প্রস্তাবনা দেওয়ার জন্য বিশেষ টিম গঠন করার কাজও এগিয়ে চলছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাক শিল্প নানা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে থাকলেও এবারই প্রথম সরকার সরাসরি রুগ্ন শিল্প পুনরুদ্ধারের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় মোহাম্মদ হাতেমকে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে, যা শিল্প মালিকদের মধ্যে এক ধরণের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
শ্রমিক নেতারাও সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে হাজার হাজার বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ফিরে আসবে, যা শিল্পাঞ্চলে নতুন করে ছাঁটাই ও শ্রমিক অসন্তোষ রুখতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাতকে সচল রাখতে হলে শুধু সাময়িক প্রণোদনা নয়, বরং ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল, স্বল্পসুদে পুনর্বাসন তহবিল গঠন এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।







