
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নে নাগরিক সেবা বন্ধ থাকার সুযোগে নতুন করে গুজব ছড়াচ্ছে বিতর্কিত মেম্বার আব্দুর রশিদের অনুসারীরা। তারা এলাকায় প্রচার করছে যে, আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই ১১ মামলার আসামি রশিদকে পুনরায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমন গুজবে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে পুরো ইউনিয়নজুড়ে।
তবে, জেলা প্রশাসক স্পষ্টভাবে এই গুজব নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না এবং এলাকাবাসীর আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হাইকোর্টে রিট করে প্রশাসকের কার্যক্রম আটকে দেওয়ার পর থেকে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বক্তাবলী ইউনিয়নে নাগরিক সেবা বন্ধ রয়েছে। এই অচলাবস্থার মাঝেই রশিদের লোকজন প্রচার করছে যে, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে ফেলা হয়েছে এবং রশিদই আবার চেয়ারে বসছেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে ওঠে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি এক মানববন্ধনে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দেন— বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি, স্বৈরাচারের দোসর এবং ভূমিদস্যু রশিদকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার পাঁয়তারা করা হলে কঠোর আন্দোলন ও বড় ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
রশিদ মেম্বারের কারণে চরম অতিষ্ঠ পরিষদের ৯ জন ইউপি সদস্য। তারা জানান, রশিদ ব্যাপকভাবে বিতর্কিত এবং তার অপকর্মের কারণেই তাকে অপসারণ করা হয়েছিল।
মেম্বাররা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, “যেহেতু রশিদকে একবার বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই তার অপসারণ বহাল রাখা হোক। আমাদের পরিষদে আরও দুইজন প্যানেল চেয়ারম্যান রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হোক। অথবা, মেম্বারদের ভোটের মাধ্যমে নতুন কোনো সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার সুযোগ দেওয়া হোক।”
রশিদের পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার গুজব এবং নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্পষ্টভাবে জানান যে, রশিদের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি।
জেলা প্রশাসক বলেন, “নাগরিক সেবার বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে প্রশাসক দেওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা (স্থগিতাদেশ) থাকায় একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। আইনসম্মত উপায়ে আমরা কী সমাধানে যেতে পারি, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসা মাত্রই আমরা তা কার্যকর করব।”
কবে নাগাদ এই ভোগান্তির অবসান হবে— এলাকাবাসীর এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “মন্ত্রণালয় শিগগিরই হয়তো তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।”
এলাকাবাসীর দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে জেলা প্রশাসক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এলাকাবাসী যেমন চায়, সে অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসকের এই আশ্বাসের পর কিছুটা আশার আলো দেখছেন বক্তাবলীর সাধারণ মানুষ। তারা এখন দ্রুত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন, যেন এই বিতর্কিত মেম্বারের হাত থেকে ইউনিয়নটি রক্ষা পায় এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা নাগরিক সেবা পুনরায় সচল হয়।







