ঋণখেলাপি বজলুর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সোনারগাঁয়ে তীব্র প্রশ্ন

দরখাস্ত ছাড়া নেই কোনো কাগজ!

86
ঋণখেলাপি বজলুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সোনারগাঁয়ে প্রশ্ন
ঋণখেলাপি বজলুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সোনারগাঁয়ে প্রশ্ন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট পরিপত্র ও সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে সোনারগাঁয়ের হোসেনপুর শম্ভুপুরা পিরিজপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদ দখল করা মোহাম্মদ বজলুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এবার গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের অন্যতম শীর্ষ এই ব্যাংক ঋণখেলাপি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো সনদ বা ন্যূনতম জীবনবৃত্তান্ত জমা দেননি। কোনো ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড বা শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে স্কুলের সভাপতি করায় ফুঁসে উঠেছে এলাকার ছাত্র-জনতা ও অভিভাবকরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো স্কুলের সভাপতি পদের জন্য মনোনীত ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা স্থানীয় প্রশাসনের (ইউএনও ও ডিসি অফিস) মাধ্যমে কঠোরভাবে যাচাই করার কথা। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পাঠানো ৩ জনের মূল প্যানেলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কড়াকড়িভাবে মানা হলেও, প্যানেলের বাইরে গিয়ে আলাদা আবেদন করা বজলুর রহমানের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের খোদ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলীনূর খান এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, বজলুর রহমান সভাপতি হওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি সাধারণ লিখিত দরখাস্ত দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো সার্টিফিকেট বা জীবনবৃত্তান্ত (CV) প্রশাসনের কাছে জমা দেননি!

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন মানুষ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কিভাবে কোনো রকম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ না দেখিয়েই, শুধু একটা সাদা কাগজে দরখাস্ত লিখে এত বড় একটি স্কুলের সভাপতি পদের চেয়ার বাগিয়ে নিতে পারেন?

বজলুর রহমান ব্যাংক ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং তাঁর বি আর স্পিনিং মিলসের কাছে শুধু জনতা ব্যাংকেরই পাওনা প্রায় ৫৭৪ কোটি টাকা।

এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, যিনি জালিয়াতি করে ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছেন, তিনি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা লুকাতেই কোনো সার্টিফিকেট জমা দেননি। স্থানীয়দের ধারণা, বজলুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা হয়তো স্কুলের সভাপতি হওয়ার মতো ন্যূনতম মানদণ্ডেও পড়ে না, আর এই কারণেই তিনি তাঁর পড়াশোনার কাগজ গোপন রেখেছেন।

তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মনে ওঠা এই নানামুখী প্রশ্ন এবং কোনো কাগজপত্র ছাড়া কীভাবে তিনি সভাপতি হলেন—এ বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ বজলুর রহমানের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর বক্তব্য যুক্ত করার উদ্দেশ্যে ‘নারায়ণগঞ্জ সমাচার’-এর পক্ষ থেকে তাঁর নম্বরে সুনির্দিষ্ট প্রশ্নসহ আনুষ্ঠানিক ক্ষুদে বার্তা (SMS/WhatsApp) পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর (রিপ্লে) দেননি এবং সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

একটি স্কুলের সভাপতি, যিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং স্কুলের ফান্ড তদারকি করবেন, তাঁর নিজেরই শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো হদিস নেই—এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সোনারগাঁজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।