
দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এক জরুরি নির্দেশনায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের সকল দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
তবে জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে কাঁচাবাজার, খাবারের দোকান এবং ওষুধের দোকানগুলোকে এই নির্দেশনার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্দেশনা বলা হয়েছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। শুধুমাত্র ওষুধের দোকান, খাবারের হোটেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকবে।
এছাড়া, অযথা জনসমাগম হ্রাস করা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দিনের বড় একটা সময় কর্মব্যস্ত থাকায় অনেকেই সন্ধ্যার পর কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বিশেষ করে বড় বড় শপিংমলগুলোতে সন্ধ্যার পরেই ভিড় বাড়ে।
এখন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ হয়ে গেলে ক্রেতাদের কেনাকাটার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন—দিনের একটি বড় অংশ বিশেষ করে সন্ধ্যার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সরকারি নির্দেশনা পালনে তারা ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতনতা।
শুধু নির্দেশ জারি করলেই হবে না, বরং সাধারণ মানুষ যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা পেতে ভোগান্তিতে না পড়ে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
বিশেষ করে ওষুধের দোকান ও জরুরি সেবাগুলো যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পরিশেষে, যেকোনো সংকটকালীন সময়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। সরকারি এই আদেশ মেনে চলার মাধ্যমে আমরা যেমন একদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারব, তেমনি অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারব।
প্রশাসনের উচিত হবে ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা মাথায় রেখে একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
শান্ত/না:/স:







