
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চলমান সংকট সত্ত্বেও এপ্রিল মাসে দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত মাসিক সমন্বয় বৈঠকে এই জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সরকারের এই পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন দেশের সাধারণ জনগণ।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানী তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
পূর্বের ন্যায় ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটারে ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। এই ঘোষণায় দেশজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দের ঢেউ উঠেছে।
তেলের দাম বৃদ্ধি না করার এই সিদ্ধান্তে দেশের আপামর জনসাধারণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যে জনগণ তাদের সন্তুষ্টির কথা জানাচ্ছেন।
অনেকে বলছেন, “সরকার এখনো তেলের দাম বাড়ায়নি, তাই সরকারকে লাখো লাখো শুকরিয়া। অন্য সরকার হলে এতোদিনে দাম বেড়ে যেত।”
বাইকাররা বলছেন, “তেলের দাম ঠিক রাখায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।”
এই দুর্দিনে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখাকে তারেক রহমানের দূরদর্শী ও জনদরদী নেতৃত্বের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ভাণ্ডারে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে।
এপ্রিল মাসের জন্য আরও প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেল মজুত আছে, যা দিয়ে ১৫-১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
মনির হোসেন চৌধুরী আরও জানান, ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে একটি অসাধু চক্র তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে এবং দাম বৃদ্ধির আশায় অবৈধভাবে তেল মজুত করে অধিক মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে।
সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও মূল্য বৃদ্ধি না করার পদক্ষেপ এই অসাধু চক্রের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দিয়েছে বলে জনগণ মনে করছেন।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিকল্প কিছু পদক্ষেপও বিবেচনায় নিচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমাতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিস সময় কমানো এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগ নিয়ে নীতিগতভাবে আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে সপ্তাহে তিনদিন ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি ব্যবহারে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।







