
দীর্ঘদিন ধরেই ফতুল্লার চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর ও কাশীপুর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ইতোমধ্যেই নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আর এই পুরো আলোচনায় নতুন করে সামনে আসছে গিয়াস উদ্দিনের নাম। কারণ, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই তিনিই প্রথম দিকের নেতাদের একজন হিসেবে ফতুল্লাকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার জন্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফতুল্লা এখন আর শুধুমাত্র একটি ইউনিয়নভিত্তিক জনপদ নয়। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল, যেখানে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাস। অথচ নাগরিক সুবিধা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক উন্নয়ন ও নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই পিছিয়ে ছিল এই অঞ্চল। ফলে সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে ফতুল্লার নাগরিক জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গত বছর বিভিন্ন পথসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “যেকোনো মূল্যেই আমি ফতুল্লা থানাকে সিটি করপোরেশন করে ছাড়বো।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন যে ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামো দিয়ে ফতুল্লার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পসমৃদ্ধ এলাকার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, ফতুল্লাকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার দাবিটি শুরুতে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখা হলেও এখন সেটি বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে নগর সম্প্রসারণ, আধুনিক সেবা বৃদ্ধি এবং শিল্পাঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লার চার ইউনিয়ন সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হলে নতুন করে ওয়ার্ড বিন্যাস, অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক সংস্কার, স্ট্রিট লাইটিং এবং নাগরিক সেবার বিস্তার ঘটবে। এতে কয়েক লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, ফতুল্লাকে নগর কাঠামোর মধ্যে আনার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জের সামগ্রিক অর্থনীতি ও নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে। আর এই প্রক্রিয়ায় সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের দীর্ঘদিনের দাবি ও রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।







