
রফিকুল ইসলাম জীবন, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জে কয়েক ঘণ্টার টানা ও ভারী বৃষ্টিপাতে সদর উপজেলার ফতুল্লার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বর্ষণে ইসদাইর, গাবতলী, টাগারপাড় ও লালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ড্রেন উপচে পানি ঢুকে পড়েছে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে, ফলে কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ফতুল্লার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ইসদাইরের এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “সকালে বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এরপর সেই পানি বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। আসবাবপত্র সরিয়ে কোনো রকমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।”
গাবতলী এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, “প্রতিবছর একই অবস্থা। বৃষ্টি হলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। পানি নামতে অনেক সময় লেগে যায়। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হয়।”
অন্যদিকে, ঠিক একই সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নগরীর প্রধান সড়ক, চাষাঢ়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, দুই নম্বর রেলগেট, মণ্ডলপাড়া, নিতাইগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি। যানবাহন চলাচলও ছিল স্বাভাবিক।
স্থানীয়রা বলছেন, মাত্র এক বছর আগেও সামান্য বৃষ্টিতেই নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যেত। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যান চলাচল এবং জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ত। কিন্তু বর্তমানে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল-ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনে প্রশাসনিক উদ্যোগের কারণে সেই পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেছে।
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে শহরে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে, সেখানে ফতুল্লার মানুষ কেন এখনও একই দুর্ভোগের শিকার?
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ, অপরিকল্পিতভাবে খাল-নালা ভরাট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ফতুল্লার জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ঢাকার ডিএনডি-সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও একই ধরনের সমস্যার পেছনে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অকার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেন সংস্কার এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “শহরের মানুষ যদি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে পারে, তাহলে ফতুল্লার মানুষ কেন প্রতি বর্ষায় পানিবন্দি থাকবে?







