“শহরবাসীর পায়ে হাটার অধিকার হরনকারীদের গ্রেফতার দাবি”

4
ফুটপাত দখল করলেই গ্রেফতার করতে হবে
ফুটপাত দখল করলেই গ্রেফতার করতে হবে

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখল ও হকার ইস্যু নিয়ে জনমত দিন দিন আরও কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত চিত্র ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, শহরের প্রধান সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকায় ফুটপাত দখল করে হকার বসার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সাধারণ পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শহরের সর্ব স্থরের সাধারন মানুষের মতে, ফুটপাত কোনোভাবেই ব্যবসা বা অবৈধ দখলের জায়গা হতে পারে না। এটি মূলত জনসাধারণের অবাধ চলাচলের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এবং অবৈধভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা চলছে। এতে এই শহরের প্রায় বিশ লাখ মানুষের অধিকার হরন করা হচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি হকার পুনর্বাসন নামে কিছু সংগঠিত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ফুটপাত পুনরায় দখলের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নাগরিকরা। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের উদ্যোগ শহরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে বরং বিশৃঙ্খলা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

এই পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ, সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি ও সাবেক সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন পৃথকভাবে মতামত প্রকাশ করে বলেছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার চলমান প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা এবং পুনরায় দখলের চেষ্টা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা আরও বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে ফুটপাত দখল বা পুনরায় দখলের চেষ্টা যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উচিত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। তারা এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, এমনকি আইন অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানান। তারা উস্কানীদাতাদেও গ্রেফতার দাবি করেছেন এবং ফুটপাতে বসার সাথে সাথে হকারদেও গ্রেফতার কওে মোবাইল কোট্রের মাধ্যমে জেল, জরিমানা এবং পন্য বাজেয়াপত করতে হবে বলে তারা দাবি জানিয়েছেন।

নগরবাসীর মতে, এই ইস্যুতে এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে হাঁটার স্বাভাবিক পরিবেশ না থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে।

নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ বলছে, হকার সমস্যার সমাধান অবশ্যই মানবিকভাবে পুনর্বাসনের মাধ্যমে হতে পারে, তবে তা কখনোই ফুটপাত দখলের বিনিময়ে নয়। ফুটপাতকে অবশ্যই স্থায়ীভাবে অবাধ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে এখন মূল দাবি একটাই ফুটপাত দখলমুক্ত করা, জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দখল পুনরুদ্ধারের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ।