
মোঃ মোস্তফা কামাল
গত কয়েকদিন আগে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন সাহেবের তার আইডিতে দেওয়া একটা পোস্টে দেখতে পাই, বিগত কয়েক বছর তার সভাপতিত্বে পরিচালিত গাবতলী সোসাইটির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কিছু উদাহরণ। আগামী দিনে কেউ সোসাইটির দায়িত্বে আসতে চাইলে স্বাগতম। মূলত এই আহ্বানকে কেন্দ্র করেই আমার লেখা। রফিকুল ইসলাম জীবন আমার কাছের একজন প্রিয় মানুষ। তাছাড়া তিনি আমাদের এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে বসবাস করেন। তবে আমার বাপ-দাদার বাসস্থান উত্তর মাসদাইর গাবতলীতে অনেক মানুষই বাড়িঘর করেছেন, সবাই কিন্তু গাবতলীর উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন না। একারণে এই জায়গায় জীবন ভাইকে আমি খুব পছন্দ করি, কারণ তিনি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন।
নারায়ণগঞ্জের শহরতলী খ্যাত উত্তর মাসদাইর গাবতলীর ইতিহাস ও উন্নয়নের কথা লিখতে গেলে একজন মানুষের নাম না লিখলে গাবতলীর সঠিক ইতিহাস আড়াল হয়ে যায়। গাবতলীতে ৮/১০ টা পরিবার নিয়ে ছিল গাবতলীর সংসার। ১৯৬০ সালে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠাকালীন মেম্বার মরহুম শফিউদ্দিন আহমেদ (শফি মেম্বার) ছিলেন তৎকালীন সময়ে ৮/১০ পরিবারের একমাত্র আস্থার স্থল। আজকে যে রাস্তা দিয়ে গাবতলীতে ঢুকতে হয় সে রাস্তাটি তৈরি করেন শফি মেম্বার সাহেব। এর আগে এই এলাকায় ঢুকতে হলে ক্ষেতের আইল দিয়ে হেঁটে হেঁটে ঢুকতে হতো। তৎকালীন সময় বর্ষাকালীন নৌকায় গ্রামে ঢুকতে হতো। গাবতলী বলতে একটা পুকুরের চারপাশ ঘিরে ৮/১০টা বাড়ি। শফি মেম্বার সাহেব এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে তার বন্ধুমহলের অনেককেই এলাকায় জায়গা কিনে দেন। এদের মাঝে অন্যতম কয়েকজনের নাম না লিখলেই নয়। বর্তমান গাবতলী মাজারের দক্ষিণ পাশের জায়গায় এস.পি. তাজুল ইসলাম, ডা. শফিউল্লাহর বাবা ব্যাংকার দাউদ সাহেব, খানপুরের শফি হোসেন। আজকে যে বাড়িটি আউয়াল সাহেবের বাড়ি, সেটা ছিল গলচিপার বাদশা মিয়ার বাড়ি।
যা হোক, যে প্রসঙ্গে আসছিলাম—মূলত গাবতলীর ১৯৬০ সালের রাস্তা তৈরির মধ্য দিয়েই গাবতলীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়। শফি মেম্বার সাহেবের তৎকালীন সময় থেকে ৭১ নং প্রাইমারি স্কুল, উত্তর মাসদাইর গাবতলী জামে মসজিদ, এলাকার অন্তত ২০টি শাখা রোডসহ অসংখ্য রাস্তা তৈরি করেন। এরমধ্যে যে শাখা রাস্তাটি গাবতলী নতুন বাজার থেকে ইসদাইর যাওয়ার রাস্তা, সেটা গ্রামের সব মানুষকে নিয়ে এক রাতে তৈরি করেন। যে রাস্তা তৈরি করতে জিয়াউর রহমান সাহেবের মার্শাল জারি কালীন সময়ে শফি মেম্বার, শহিদুল্লাহ মেম্বার, হুবু মেম্বাররা মামলা খেয়েছেন। তারপর শফি মেম্বার মানে আমার বাবার পরে, আমার জেঠাতো ভাই ফতুল্লা থানা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল্লাহ ভাই মেম্বার নির্বাচিত হয়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।
এবার আসা যাক গাবতলীর উন্নয়ন ও গাবতলী সোসাইটি প্রসঙ্গে। জীবন ভাইয়ের পোস্টে গাবতলী সোসাইটির সূচনা পর্বের কবীর ও গোলাম জাকারিয়া মনজুর বিষয়টি আসলেই তখনকার সময়ে একটি উদাহরণ হয়েছিল। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গাবতলী সোসাইটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাতের সিকিউরিটি, রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ড্রেন ব্যবস্থা পরিষ্কার করা যাবতীয় কাজে এলাকাবাসীর প্রচুর সহযোগিতা পেল গাবতলী সোসাইটি। তখনকার সময়ে দেখা গেছে, স্থানীয় থানায় গাবতলীর কোনো ঘটনায় অভিযোগ বা জিডি হলে, থানা কর্তৃপক্ষ গাবতলী সোসাইটিতে যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসা করার অনুরোধ করত। সেই থেকেই মূলত গাবতলী সোসাইটির কার্যক্রম অন্য দিতে ধাবিত হতে থাকে।
গাবতলী সোসাইটি হয়ে উঠল বিচার-আচার কেন্দ্রিক সংগঠন। শুরু হয় এলাকাবাসীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আমি তখন একটা পত্রিকায় কাজ করি, সেই সুবাদে এলাকাবাসীর অনুরোধে গোলাম জাকারিয়া মনজুর বিরুদ্ধে তার অনিয়মের বেশ কয়েকটি সিরিজ রিপোর্ট করি। এক পর্যায়ে মীর্জা শামছুল ইমামসহ গাবতলী সোসাইটির সবাই সোসাইটির কার্যক্রম বন্ধসহ সোসাইটি বিলুপ্ত করেন। এর পর আসে ২য় বার সোসাইটি গঠন।
চলবে…







