অপরাধমুক্ত গাবতলী গড়তে রফিকুল ইসলাম জীবনের বিকল্প নেই: মোস্তফা কামাল

87
গাবতলী সোসাইটির সভাপতি সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল
বামে গাবতলী সোসাইটির সভাপতি সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন, ডানে সাংবাদিক মোস্তফা কামাল

উত্তর মাসদাইর গাবতলীর একাল-সেকাল নিয়ে সাংবাদিক মোস্তফা কামালের স্মৃতিচারণমূলক বিশেষ কলামের আজ পড়ুন ২য় পর্ব

উত্তর মাসদাইর গাবতলী সোসাইটির অতীত আর বর্তমানের ইতিহাস এক সুতোয় গাঁথা। এক সময় যে সংগঠনটি অনাচার আর স্বেচ্ছাচারিতার কবলে পড়ে স্থবির হয়ে পড়েছিল, আজ স্থানীয় মেম্বার ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে সেই গাবতলী সোসাইটিকে সততা, বিচক্ষণতা ও আমূল উন্নয়নের এক রোল মডেলে পরিণত করেছেন বর্তমান সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন।

২য় বার যখন গাবতলী সোসাইটি গঠন করা হয়, তখন ফুড ইন্সপেক্টর জামান সাহেবের ছেলে শাহিদুজ্জামান শাহীনের সাথে বিস্তারিত আলোচনার পর একটি অলিখিত শর্ত ছিল—এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না। সেই শর্তে অধ্যাপক মনিরুল ইসলামকে সভাপতি, শাহীনকে সেক্রেটারি করে কমিটি গঠিত হয়। সোসাইটির কমিউনিটি পুলিশের চেয়ারম্যান হন শাহীনের বড় ভাই মেজর জিমি এবং আমি হই সদস্য সচিব।

শুরুর কয়েক বছর ভালো ভূমিকা থাকলেও, আস্তে আস্তে সোসাইটির একক কর্ণধার হয়ে ওঠেন শাহিদুজ্জামান শাহীন। তাঁর স্বেচ্ছাচারিতামূলক কর্মকাণ্ডে এক সময় পুরো এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে।

শাহীনের সেই অনাচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তৎকালীন সময়ে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রথম সোচ্চার ও জোরালো ভূমিকা রাখেন রফিকুল ইসলাম জীবন। আমার স্পষ্ট মনে আছে, মরহুম মীর্জা শামসুল ইমামের বাড়িতে যখন গুটিয়েক মিডিয়াকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে নিয়ে সোসাইটির অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছিল, তখন জীবন ভাইয়ের সাথে আমিও ছিলাম। এক পর্যায়ে শাহীন বৈঠকস্থলে এসে গাবতলী সোসাইটি অফিসের চাবি জীবন ভাই এবং আমাদের বরাবর হস্তান্তর করে সোসাইটি থেকে অব্যাহতি নিয়ে চলে যায়।

শাহীনের প্রস্থানের পর স্থানীয় মেম্বার ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে গাবতলী সোসাইটির সভাপতির দায়িত্ব কাঁধে নেন রফিকুল ইসলাম জীবন। অদ্যবধি তিনি তাঁর বিচক্ষণতা, সততা ও পরিচিতির গণ্ডির সমন্বয়ে গাবতলীর উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর হাত ধরেই অত্র এলাকায় মাদক নির্মূল হয়েছে, নিয়ন্ত্রণে এসেছে কিশোর গ্যাং কালচার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হানাহানি দূর করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, গাবতলীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় সর্বপ্রথম সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক স্থাপন করে চুরি-ডাকাতির হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছেন রফিকুল ইসলাম জীবন। গাবতলী মাদ্রাসার পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারসহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ওনার ব্যক্তিগত বুদ্ধিমত্তা ও অবদান গাবতলী ও উত্তর মাসদাইরবাসী আজীবন মনে রাখবে।

ব্যক্তিগত জীবনে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন একজন অত্যন্ত মানবিক মানুষ। এলাকা কিংবা সাধারণ মানুষের যেকোনো বিপদে-আপদে কেউ তাঁর কাছে সাহায্যের জন্য গেলে, তিনি কখনো কাউকে ফিরিয়ে দেননি। নিজের সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে তিনি মানুষের সমস্যার সমাধান করেছেন। আমার পূর্বপুরুষরা যেভাবে আজীবন মানুষের পাশে ছিলেন, ঠিক তেমনি এক অকৃত্রিম ও মানবিক মানসিকতা রফিকুল ইসলাম জীবনের মাঝে বিদ্যমান।

বর্তমানে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার যে দুর্গতি চলছে, তার আমূল পরিবর্তন এক দিনে সম্ভব না হলেও, রফিকুল ইসলাম জীবন যেভাবে বুক চিতিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তা অতুলনীয়। এই মুহূর্তে গাবতলী সোসাইটির সভাপতির পদ থেকে সরে গিয়ে সোসাইটির দায়িত্বভার অন্য কাউকে দেওয়া মানে হবে এলাকার জন্য একটি চরম ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’। কথায় বড় না হয়ে কাজে বড় হওয়া এই মানুষটির নেতৃত্ব গাবতলীর শান্তি ও প্রগতির স্বার্থেই আজ অত্যন্ত অপরিহার্য।

চলবে…

প্রথম পর্ব: [https://narayanganjsomachar.com/gabtoli-development-and-society-role-by-mostafa-kamal/]