বিএনপির সভাপতি আকতারকে ‘তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ রিয়াদ-জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে

693
আকতারকে ‘তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ রিয়াদ-জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে
আকতারকে ‘তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ রিয়াদ-জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকতার হোসেনকে নগর ভবন থেকে বের হওয়ার পর জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সৈয়দপুরের কড়ইতলা পশুর হাট নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুরের কড়ইতলা এলাকায় পশুর হাট ইজারা নেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ১ নম্বর সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদ। ওই হাটটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বাবুরাইলের বহুল আলোচিত জোড়া খুন মামলার ১ নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর। অভিযোগ উঠেছে, হাট নিয়ে বিরোধের জেরে রিয়াদ, জাহাঙ্গীর ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আকতার হোসেন নগর ভবন (সিটি কর্পোরেশন) থেকে বের হওয়ার পরপরই তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, কড়ইতলা হাট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। অভিযুক্ত রিয়াদ ও জাহাঙ্গীরের পক্ষের দাবি—আকতার হোসেন অবৈধভাবে কড়ইতলা হাট বসিয়ে তাদের ইজারাকৃত হাটে বাধা সৃষ্টি করছিলেন এবং ব্যবসায়ে ক্ষতি করছিলেন। তবে গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আকতার হোসেন শুরু থেকেই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, তিনি কোনো অবৈধ হাট বসাননি এবং কারও হাটে বাধাও দেননি।

আকতার হোসেনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর বলেন, “তুলে নিয়ে যাই নাই। সিটি কর্পোরেশনের সামনে উনার সাথে কথা হইছে, আমরা একটা টাকা পামু, সেই টাকা দিচ্ছে না। এ ব্যাপার তার সাথে কথা হইছে। তাকে নিয়ে আমরা হোটেলে বসে কথা বলেছি। আমাদের একটা লেনদেনের ঝামেলা ছিলো, ঐ হাটের ঝামেলাটায় উনারা চেক দিছে, চেক পাস হয় নাই। উনি বলছে, মঙ্গলবারে চেক পাস হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, মহানগর যুবদলের ১ নম্বর সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে জাহাঙ্গীর সাহেব বিষয়টি কথা বলেছে জানালে উনি কল কেটে দেন।

এই ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে বিএনপি ও যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাধারণ কর্মীরা এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় সিনিয়র নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।