কার ইশারায় অপরাধী এমপিপুত্রকে ছাড়া হলো? ক্ষুব্ধ জামায়াত আমির ও এনসিপি নেতা

126
সজীবের মুক্তিতে ক্ষুব্ধ জামায়াত আমির আব্দুল জব্বার ও এনসিপি নেতা বিপ্লব
সজীবের মুক্তিতে ক্ষুব্ধ জামায়াত আমির আব্দুল জব্বার ও এনসিপি নেতা বিপ্লব

চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আটকের পর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও বহিষ্কৃত যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজীবকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সজীবের এমন নাটকীয় মুক্তিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব জুলফিকার হায়দার বিপ্লব। তারা অপরাধী যেই হোক না কেন, তার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “এই ব্যাপারে হয়তো পুলিশের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আছে, আশা করি আমরা সেই বক্তব্য পাবো। কারণ পুলিশ নিজেই বললো—তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৫/৬টি অভিযোগ রয়েছে; অথচ আবার সেই ব্যক্তিকে কার ইশারায় বা কী কারণে ছেড়ে দেওয়া হলো? অপরাধীকে তো ছেড়ে দেওয়ার কথা নয়, তার তো জেলে যাওয়ার কথা।”

মজলুম ও ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, “যাদের সাথে অন্যায় হয়েছে, যারা মজলুম হলো বা যারা সজীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তাদেরও এখন মুখ খোলা উচিত। তাদের সাথে কী জুলুম হয়েছে তা সবার জানা দরকার। আমরা যদি অন্যায় দেখে কথা বলা বন্ধ করে দিই, তাহলে এই যে চাঁদাবাজ, দখলদার আর ডাকাত গোষ্ঠী আছে, এরা আমাদের উপর আরও বেশি জেঁকে বসবে।”

আইনের চোখে সবাই সমান উল্লেখ করে মাওলানা আব্দুল জব্বার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিচার হওয়া উচিত। কে সাধারণ মানুষ, আর কে এমপিপুত্র বা ধনাঢ্য ঘরের লোক—তা বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ‘ক্লাস’ বা ইস্যু হতে পারে না। অপরাধের ধরন অনুযায়ী সবার বিচার হতে হবে।”

বিপরীতে, প্রশাসনের এই রহস্যজনক মুচলেকা নীতির কঠোর সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম সদস্য সচিব জুলফিকার হায়দার বিপ্লব বলেন, “এই সজীব গ্রেফতারের পর প্রথমদিকে আমাদের মনে একটা আশা জেগেছিল যে, বর্তমান সরকার হয়তো প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে নিয়ে আসতে পেরেছে। কিন্তু এদেশের মানুষ আমরা এতো বড়ই হতভাগা যে, যার সাথে জুলাই বিপ্লবের খুনি ও হত্যার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়াতে পারে, যার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়ে খোদ নিজস্ব সংগঠন যুবদলও তাকে বহিষ্কার করে দিতে পারে; অথচ সেখানে আমাদের প্রশাসন কী করলো? একটা সাধারণ মুচলেকা নিয়ে তাকে মাঝরাতে ছেড়ে দিলো! কোন অদৃশ্য বলয়ের প্রভাবে বা ইশারায় এটি করা হলো, তা আসলে আমাদের জানা নেই।”

দেশের বিচার ব্যবস্থার এলিট সংস্কৃতির দিকে ইঙ্গিত করে এনসিপি নেতা বিপ্লব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যদি গভীরভাবে খেয়াল করি তবে দেখবো, এই দেশের এলিট বা প্রভাবশালী শ্রেণির লোকেরা কখনোই সহজে বিচারের আওতায় আসতে পারে না। ইনিয়ে-বিনিয়ে কোনো না কোনো উপায়ে তারা বিচার থেকে বের হয়েই যায়। সজীব যদি সত্যিই নির্দোষ হয়ে থাকে, তাহলে যুবদল কেন তাকে সাথে সাথে বহিষ্কার করলো? প্রশাসন কি আসলেই চায় এদেশের অপরাধ কমে যাক, নাকি তারা কেবল স্বার্থের বা সমঝোতার জালে আটকে যায়?”

এমপিপুত্র খাইরুল ইসলাম সজীবের এই নাটকীয় মুক্তিকে কেন্দ্র করে জামায়াত এবং নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতাদের এমন মারমুখী ও যৌক্তিক অবস্থান নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শহরের সচেতন মহলও এখন প্রশ্ন তুলছেন—৫ই আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশেও কি তবে অপরাধীরা ক্ষমতার জোরে এভাবেই পার পেয়ে যাবে?