
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আলোচনায় উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। জানা গেছে, ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত এই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে থাকে। এবারও তেমনটাই আশা করছেন সবাই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় দলগুলোর প্রার্থী কারা হচ্ছেন সেটি এবার ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নাসিক নির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে তা দেখতে অধীর আগ্রহে বসে আছেন ভোটার ও এই দলের সমর্থকরা। তবে জামায়াত তাদের দলীয় প্রার্থী মাঠে নামাবে, নাকি তাদের জোটের কাউকে দেবে — সেই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ।
স্থানীয় জামায়াত নেতারা বলছেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজেদের মধ্য থেকেই প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। সংগঠন যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই নারায়ণগঞ্জে মেয়র পদে দাঁড় করানো হবে। তবে জোটগত কারণে ভিন্ন কিছু করতে হলে সেটিও দ্রুত জানা যাবে।
সূত্র বলছে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা মঈনউদ্দিন, শিবিরের সাবেক সভাপতি ও মহানগরের আমির মাওলানা আবদুল জব্বার — এই দুজনের মধ্যে যেকোনো একজনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, যিনি গত সংসদ নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন, তিনিও মেয়র প্রার্থী হতে পারেন।
এর পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ। প্রথমটি হলো, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে গেলেও জামায়াত অতীতে ৩ আসনে যত ভোট পেয়েছে সেই সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। দ্বিতীয় কারণ হলো, তার নির্বাচনী এলাকা ৩ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অংশ। তাই সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, প্রাপ্ত ভোট ও জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকেও মেয়র পদে এগিয়ে রাখছেন অনেকে। একই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের জোটসঙ্গী খেলাফত মজলিসের নেতা এবিএম সিরাজুল মামুনও আলোচনায় রয়েছেন। তবে সিরাজুল মামুন জামায়াতের প্রার্থী হতে পারবেন কেবল জোটগত সিদ্ধান্ত হলেই।
মাওলানা আবদুল জব্বার, আমির — মহানগর জামায়াতে ইসলামী, বলেন, “সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা স্থানীয়ভাবে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। সিটি নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রার্থী যাচাই-বাছাই চলছে। আমাদের সংগঠন যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থী ঘোষণা দেবে। চেয়ারম্যান নির্বাচন, মেম্বার নির্বাচন, পাশাপাশি যেসব উপজেলা রয়েছে সেই নির্বাচন নিয়েও আমরা যাচাই-বাছাই করছি। আশা করি এই মাসের (এপ্রিল) মধ্যেই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত দল থেকে সিদ্ধান্ত হলো, আমরা স্থানীয় নির্বাচনগুলো এককভাবে করব। যার যার যতটুকু সামর্থ্য আছে সে জায়গা থেকে আলাদাভাবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা। তবে আমাদের সংগঠন সামনে জোটগত কারণে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিলে তা পরে বলা যাবে।”
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। তবে নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা নজর কেড়েছে সবার। বিএনপির প্রার্থীদের চেয়ে তুলনামূলক কম আলোচনায় থেকেও প্রতিটি আসনে অতীতের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভোট পেয়েছে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহল।







