
গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নানা ধরনের অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দায়িত্বে থাকা সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়লে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এবং টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কয়েকটি ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। প্রথমেই কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রমে একাধিক অসঙ্গতি দেখতে পান।
তিনি বলেন, অফিসে বিপুলসংখ্যক সেবাপ্রার্থী ও বহিরাগত উপস্থিত ছিলেন। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে নামজারি-সংক্রান্ত নথিপত্র ও বিভিন্ন মামলার কাগজপত্র যাচাই করা হলে সংশ্লিষ্ট তহসিলদার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রয়োজনীয় নথিও উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
পরিদর্শনের সময় ‘নামজারি’ সফটওয়্যারের কার্যক্রম প্রদর্শনের অনুরোধ করা হলেও সেটিও দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও নামজারির কাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে না করে বহিরাগতদের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছিল, যা গুরুতর অনিয়ম বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।
পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, অফিসের দুই কর্মকর্তা অনুপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত কর্মকর্তারাও বিভিন্ন কাজের সঠিক হিসাব দিতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে বলেও জানা যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, এখন বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে বিধি মোতাবেক তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, একই দিনে আরেকটি ভূমি অফিসও পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন, তবে কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। সেগুলো দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়মিত তদারকি করা হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে ভূমি সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। আবেদন সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিসে পৌঁছে। তহসিলদার যাচাই-বাছাই শেষে আবেদন উপযুক্ত হলে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব দেবেন, আর উপযুক্ত না হলে যথাযথ কারণ উল্লেখ করে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব না দেওয়ার বিধান রয়েছে।







