
জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সাধারণ মানুষের অধিকার ও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কথা বলায় তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে ‘হুমকি’ দেওয়া হচ্ছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু। গত শনিবার রূপগঞ্জে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি জানান। তবে প্রকাশ্যে এমন বড় দাবি করলেও কার বা কাদের কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছেন—সে বিষয়ে মুখ খোলেননি এমপি। ফলে পুরো জেলাজুড়ে এখন এক বড় প্রশ্ন—এমপি দীপু ভূঁইয়াকে আসলে হুমকি দিল কে? এটি কি সত্যি কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি, নাকি মাঠের রাজনীতিতে সহানুভূতি কুড়ানোর ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’?
এমপি দীপু ভূঁইয়া ঐ সভায় বলেন, “রূপগঞ্জের মানুষের জমি রক্ষা ও চনপাড়াবাসীর নাগরিক অধিকার নিয়ে সংসদে কথা বলায় আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই করবে, সেই করবে বলে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমি রূপগঞ্জবাসীর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে রাজি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক মহলের মতে, একজন ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সত্যিই যদি কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ব্যক্তি তাকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে থাকে, তবে প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ জিডি বা মামলা করা কিংবা জনসমক্ষে সেই নামগুলো প্রকাশ করা সমীচীন ছিল। তা না করে জনসভায় ঢালাওভাবে ‘হুমকি’ ও ‘জীবন উৎসর্গ’ করার মতো আবেগপ্রবণ কথা বলা জনমনে বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, রূপগঞ্জের ভূমি ও আবাসন খাতের নানামুখী সংকট এবং পূর্বাচল হাতছাড়া হওয়ার ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধান দিতে না পেরে এমপি দীপু সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে রাজনীতি করার পথ বেছে নিয়েছেন। ক্ষুব্ধ জনগণের নজর ঘুরিয়ে নিজেদের সহানুভূতির পাত্র বানাতেই এই ‘হুমকি নাটকের’ অবতারণা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এখন প্রশ্ন উঠছে— রূপগঞ্জে সত্যিই কি কোনো শক্তিশালী চক্র একজন সংসদ সদস্যকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে, নাকি চতুর রাজনৈতিক চালে এটি কেবলই এক চরম ‘স্ট্যান্ডবাজি’? নারায়ণগঞ্জবাসী এখন এর স্পষ্ট ও সত্য জবাব চায়।
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু)-র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বার্তা (মেসেজ) পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো মতামত পাওয়া যায়নি।







