অন্য এমপিরা ভয়ে বডিগার্ড নিয়ে চলেন, আমি একা চলি—এমপি দিপুর বক্তব্যে প্রশ্ন

8
অন্য এমপিরা অকাজ করেছেন বলেই বডিগার্ড রাখেন—দিপু ভুইয়া
অন্য এমপিরা অকাজ করেছেন বলেই বডিগার্ড রাখেন—দিপু ভুইয়া

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর একটি বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। গত ২৫ জুলাই চনপাড়া স্থায়ীকরণের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, দেশের অন্যান্য সংসদ সদস্যরা বডিগার্ড নিয়ে চলাফেরা করেন, কারণ তারা “অকাজ” করেছেন। অন্যদিকে তিনি নিজে কোনো অন্যায় করেননি বলেই একাই গাড়ি চালিয়ে চলাফেরা করেন বলে মন্তব্য করেন।

সমাবেশে রূপগঞ্জকে ঢাকার প্রশাসনিক সীমানার সঙ্গে যুক্ত করার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে এমপি দিপু বলেন, পূর্বাচল প্রকল্পের সময় রূপগঞ্জের মানুষ শত শত বিঘা জমি হারিয়েছেন। এখন আবার রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, কায়েতপাড়া ও দাউদপুরকে ঢাকার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, আজকে আপনারা আছেন বলে আমি একা একা গাড়ি চালায় ঘুরি। বাংলাদেশে কোনো সংসদ সদস্য নাই, সে নিজে গাড়ি চালায় একা ঘুরে। কারণ সে চিন্তা করে, সে কোথাও না কোথাও অকাজ করেছে। তার এই ভয়ের জন্য দুই-তিনটা বডিগার্ড রাখে। আর আমার মনের মধ্যে আছে, আমি কোনো অন্যায় করি নাই। আমি কারোর কোনো হক মারি নাই। আমি একা চলব। আমার রূপগঞ্জবাসী আমার সঙ্গে সবসময় চলছে।

তিনি আরও বলেন, রূপগঞ্জবাসীই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। যেকোনো হুমকি উপেক্ষা করে তিনি জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাবেন।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা বলেন, এমপি দিপু ভুইয়ার বক্তব্যের বিষয়টি তিনি শুনেছেন।

তিনি বলেন, এমন একটি দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে আরও সতর্কতার সঙ্গে বক্তব্য দেওয়া উচিত। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সাহেব সবসময় রিকশায়ই চলাফেরা করেন। এটা নারায়ণগঞ্জবাসী জানেন। অনেকেই এবার নতুন এমপি হয়েছেন, হয়তো তিনি ওভাবে বলতে চাননি। কিন্তু বলে ফেলেছেন। ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে বক্তব্য দেওয়া উচিত।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য স্থায়ী সরকারি বডিগার্ড বাধ্যতামূলক—এমন কোনো সাধারণ বিধান নেই। কোনো জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হতে পারে। আবার অনেক জনপ্রতিনিধি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও নিরাপত্তাকর্মী রাখেন।

ফলে কেউ বডিগার্ড নিয়ে চলেন মানেই তিনি কোনো অপরাধ করেছেন, অথবা কেউ বডিগার্ড ছাড়া চলেন মানেই তিনি নির্দোষ—এমন সিদ্ধান্তের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

একই বক্তব্যে এমপি দিপু দাবি করেন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, কায়েতপাড়া ও দাউদপুরকে ঢাকার প্রশাসনিক সীমানার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে দুইবার এবং হোয়াটসঅ্যাপে দুইবার কল করা হয়। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি এবং বার্তারও কোনো জবাব দেননি। ভবিষ্যতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।