শহরের ফুটপাত উন্মুক্ত রাখতে হবে, ‘ডোপ টেস্ট’ ছাড়া হকারদের পুনর্বাসন নয়

42
নারায়ণগঞ্জে হকার পুনর্বাসনের শর্ত হিসেবে ডোপ টেস্টের দাবি।
নাসিক কর্মচারীদের ওপর হামলার পর হকারদের ডোপ টেস্ট করার জোর দাবি উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে হকারদের কোনোভাবেই আর জায়গা না দেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ৫ কর্মচারীর ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নগরী। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দাবি—আগে হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে, তারপর পুনর্বাসনের কথা ভাবা যাবে। তবে সেই পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও জুড়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু শর্ত।

সচেতন মহলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ফুটপাত কোনো ব্যবসার জায়গা নয়, এটি মানুষের হাঁটার পথ। ফলে কোনো অজুহাতেই শহরের ভেতরে আর হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। যদি মানবিক কারণে শহরের বাইরে পুনর্বাসনের চিন্তা করতেই হয়, তবে সেখানে কঠোর ‘ফিল্টারিং’ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

প্রথমত, যে হকার নামের সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের কর্মীদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা চালিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অপরাধীদের বিচার না করে পুনর্বাসনের আলোচনা করাকে প্রশাসনের নৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন অনেকে।

শহরের ফুটপাত এতোদিন যারা দখল করে রেখেছিলো, তাদের সিংহভাগ হকারই বহিরাগত। তাই পুনর্বাসনের তালিকায় নাম তোলার আগে নিশ্চিত করতে হবে যে আবেদনকারী নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা এবং এ শহরেরই ভোটার। বহিরাগত কেউ এখানে ব্যবসা করার অধিকার পাবে না।

সবচেয়ে আলোচিত ও জোরালো দাবিটি হলো—যেসব হকারকে পুনর্বাসন করা হবে, তাদের প্রত্যেকের ‘ডোপ টেস্ট’ বা মাদক পরীক্ষা করতে হবে। নারায়ণগঞ্জবাসী বলছে, হকারদের ৭০/৮০ পারসেন্টই মদ, গাঁজা-ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশায় আসক্ত। তাই ডোপ টেস্টের এই দাবিটি আরও জোরালো হয়েছে। মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত কোনো অপরাধীকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া মানে হলো সমাজকে আরও কলুষিত করা। ডোপ টেস্টে যারা উত্তীর্ণ হবে, কেবল তারাই সরকারি সুবিধার যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে।

নগরবাসী বলছে, ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে প্রশাসনের যে বর্তমান জিরো টলারেন্স নীতি, তা কোনোভাবেই শিথিল করা যাবে না। হকারদের পুনর্বাসনের নামে শহরকে আবারো বিশৃঙ্খলার অভয়ারণ্য বানাতে দেওয়া হবে না। ডোপ টেস্ট ছাড়া হকার পুনর্বাসন নয়—এটি এখন নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি মানুষের জোরালো দাবি।