অতিরঞ্জিত অপপ্রচারের নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত

23
অতিরঞ্জিত অপপ্রচারের শিকার নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান
অতিরঞ্জিত অপপ্রচারের শিকার নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট ফি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যেসব সমালোচনা ও অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোকে তিনি ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, একটি বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, নগরীতে অপরিকল্পিতভাবে গভীর নলকূপ ও সাবমারসিবল পাম্প বসানোর প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাসের বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এ কারণে একটি সুনির্দিষ্ট নিবন্ধন ও তথ্যভান্ডারভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার অংশ হিসেবে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের জন্য নির্ধারিত ফি মাত্র ৫ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি মাত্র ১০০ টাকা—যা মূলত প্রশাসনিক নিবন্ধন ও তথ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি কোনোভাবেই সাধারণ জনগণের ওপর নতুন কোনো কর বা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ নয়।

তিনি বলেন, “এই নিয়মতান্ত্রিক উদ্যোগকে জনগণের ওপর বিশাল বোঝা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মূল উদ্দেশ্য হলো ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং ভবিষ্যতের ভয়াবহ পানি সংকট এড়ানো।”

অন্যদিকে তাঁর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুরো বিষয়টিকে প্রশাসনিক উদ্যোগের বদলে জনবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে রাজনৈতিকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন, বাসদ নেতা মাহবুবুর রহমান ইসমাইল এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।

সাখাওয়াত হোসেন খান আরও বলেন, “রাজধানী ঢাকা বা অন্যান্য বড় শহরে একই ধরনের অনুমোদন ও পানির সংযোগের জন্য গ্রাহকদের অনেক বেশি ফি দিতে হয়। সেখানে নারায়ণগঞ্জে নির্ধারিত এই ফি এক প্রকার নামমাত্র। তবুও এটিকে ইস্যু বানিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জলঘোলা করা হচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ এবং এর সঠিক ডাটা সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিতভাবে সাবমারসিবল পাম্প বসানো হলে ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জে পানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে। পরিকল্পনাবিদদের ভাষ্য, শহরভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় পানি ব্যবস্থাপনা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের অনেক দেশেই নিবন্ধন ও মনিটরিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকে।

এদিকে প্রশাসকের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে, এই সমালোচনাকে কেন্দ্র করে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই। তাঁর মতে, একটি নির্দিষ্ট মহল সিটি করপোরেশনের শৃঙ্খলা ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, যাতে সামগ্রিক নগর ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।

সর্বস্তরের নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিয়ে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে মতামত তৈরি করা জরুরি। উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে শেষ পর্যন্ত নগর ব্যবস্থাপনাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

সব মিলিয়ে, সাবমারসিবল পাম্পের ফি সংক্রান্ত এই বিতর্ক এখন নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।