
নারায়ণগঞ্জকে স্থায়ী ‘ডেডলক’ বা অচল করার চক্রান্ত হিসেবে পরিচিত খানপুর কন্টেইনার ও বাল্ক টার্মিনাল প্রজেক্টে এবার চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র সামনে এসেছে। আজ বুধবার দুপুরে কোনো প্রকার সতর্কতা বা সুরক্ষাব্যবস্থা (Safety) ছাড়াই নির্মাণকাজ চালানোর সময় পার্শ্ববর্তী ‘চৌরঙ্গী ইকো পার্ক’-এর দেয়াল ধসে পড়েছে। এই ঘটনায় পার্কের এক কর্মচারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর প্রজেক্টের কাজের নিরাপত্তা ও নকশার ত্রুটি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
চৌরঙ্গী ইকো পার্কের মালিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোনো ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়েই তারা এই নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। আজ দুপুরে কাজ করার সময় আমার পার্কের একাধিক দেয়াল তারা ভেঙে ফেলেছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমার এক স্টাফের ওপর সেই দেয়াল ধসে পড়ায় সে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।” তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। কাজ শুরু করার সময় আমি ঠিকাদারদের বলেছিলাম অন্তত ৪/৫ ফুট মাটি ফাঁকা রেখে তারপর পাইলিং করতে। কিন্তু এই প্রজেক্টের নকশা (Design) এমনভাবে করা হয়েছে যে, পার্কের দেয়াল ঘেঁষেই পাইলিং করতে হচ্ছে।”
তবে নিরাপত্তা ছাড়া এভাবে কাজ করা ঠিক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই ‘সেইফটি ফার্স্ট’, নিরাপত্তাই প্রথম অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। পার্কের মালিকের সাথে কথা হয়েছে, পাইলিংয়ের কাজ শেষ হলে তার ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল মেরামত করে দেওয়া হবে। তবে স্টাফ আহত হওয়ার বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
ঘটনার পর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান জানান, “খবর পাওয়া মাত্রই আমি দ্রুত পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। পরে জানতে পেরেছি দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নিয়েছে।” তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানালে ওসি বলেন, “তাহলে বিষয়টি আমার জানা নেই। এই বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো জিডি বা লিখিত অভিযোগ হয়নি। আর জায়গা-জমির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পুলিশের তেমন কিছুই করার থাকে না।”
সরঞ্জাম আসার পরপরই এমন দুর্ঘটনা ঘটায় নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাগরিক আন্দোলনের নেতারা বলছেন, “এই কন্টেইনার পোর্ট ও বাল্কহেড টার্মিনাল যে ৩০ লাখ নগরবাসীর জীবনযাত্রাকে ধ্বংস করবে, তা এই শুরুতেই প্রমাণ হয়ে গেল। যে প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষ কাজের সময় ন্যূনতম ‘সেইফটি’ বা নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারে না, তারা প্রতিদিন শত শত দানবীয় লরির চাপ কীভাবে সামলাবে?”
ব্যবসায়ী ও নগরবাসীর দাবি, ১৮৫ কোটি টাকার এই প্রজেক্ট যেমন একদিকে পানগাঁওয়ের মতো অর্থ অপচয়ের কারণ হবে, অন্যদিকে এর নির্মাণশৈলী মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাজ আরও এগিয়ে যাওয়ার আগেই এই ‘মরণফাঁদ’ অবিলম্বে বন্ধ করে তা শহরের বাইরে কাঁচপুর বা মুক্তারপুরে সরিয়ে নিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম এবং সিটি প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জবাসী।
“সংশোধনী: গত ২০ মে এই সংবাদটি প্রকাশের সময় তথ্যগত বিভ্রান্তির কারণে অসাবধানতাবশত অন্য এক ব্যক্তির ছবি যুক্ত করা হয়েছিল, যা প্রকৃত ঘটনার সাথে সম্পর্কিত নয়। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং তা ডিজিটাল সংস্করণ থেকে সংশোধন করা হলো।”







