ছোট ভাই রাকিবকে হেভিওয়েট সাখাওয়াতের বিকল্প বানাতে তৎপর আড়াইহাজারের এমপি!

162
নাসিক নির্বাচন ঘিরে আড়াইহাজারের এমপি আজাদের ভাই রাকিব ও প্রশাসক সাখাওয়াতকে নিয়ে গুঞ্জন। সাখাওয়াত হোসেন খান এবং রকিবুল ইসলাম রাকিব বিএনপি নারায়ণগঞ্জ
নাসিক নির্বাচন ঘিরে আড়াইহাজারের এমপি আজাদের ভাই রাকিব ও প্রশাসক সাখাওয়াতকে নিয়ে গুঞ্জন। সাখাওয়াত হোসেন খান এবং রকিবুল ইসলাম রাকিব বিএনপি নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়নি। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে বেশ আগেই। সেই আলোচনায় সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চারিত নামগুলোর একটি রকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি আড়াইহাজারের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ-এর ছোট ভাই। রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিভিন্ন সম্পর্কের কারণে তিনি ইতোমধ্যেই বিএনপির একটি অংশেরকতিপয় নেতার সমর্থন পাচ্ছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজাদ ও টিপু পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের কথাও শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সম্পর্কের প্রভাব ভবিষ্যতের স্থানীয় রাজনীতিতেও কিছুটা পড়তে পারে।

তবে রকিবুল ইসলাম রাকিবের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন। নগরবাসীর একটি বড় অংশের বক্তব্য, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের রাজনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত এমন নেতৃত্বের প্রত্যাশাই তারা করছেন। হঠাৎ এসে জুরে বসা কাউকে তারা তাদের মতে, একজন প্রার্থীকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, নগরবাসীর সুখ-দুঃখ, নাগরিক সমস্যা এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা উচিত।

স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই রকিবুল ইসলাম রাকিবের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর বিএনপির রাজনীতিতে যেসব নেতাকর্মী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন, তাদের তুলনায় রাকিবের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুব বেশি আলোচনা দেখা যায় না। ফলে নগরবাসীর একটি অংশ জানতে চাইছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটির নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তার বিশেষ যোগ্যতা বা অবদান কী।

অন্যদিকে এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন এবং দল থেকেও গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন পেয়েছেন। তবে গত কয়েক বছরে তাকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক, সমালোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনার বিষয়ও সামনে এসেছে। এসব কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরাও তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আজাদের ছোট ভাইয়ের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে আগাম প্রচারণা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতার বিষয়। জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রভাব যতটা কার্যকর, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা ও নাগরিক আস্থা।

নগরবাসীর একাংশের ভাষ্য, রকিবুল ইসলাম রাকিব যদি দলীয় মনোনয়নও পান, তারপরও নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া তার জন্য সহজ হবে না। কারণ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোটাররা অতীতে বহুবার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘোষণার অনেক আগেই কোনো ব্যক্তি নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করলে সেটি দলীয়ভাবে সবসময় ইতিবাচক বার্তা দেয় না। বিশেষ করে যখন দল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি, তখন আগাম প্রচারণা দলের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা ও বিভক্তির সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে বিষয়টি বিএনপির ভাবমূর্তির ক্ষেত্রেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে নগর রাজনীতিতে আরেকটি নাম ক্রমশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে। তিনি হলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরেছে বলে নগরবাসীর অনেকেই মনে করছেন। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বিভিন্ন নাগরিক সেবা সচল করা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং বেশ কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।

নগরবাসীর একটি বড় অংশ মনে করেন, প্রশাসক হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন খানের কার্যক্রম তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবেও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। বিএনপি আগামী সিটি নির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেবে, সে সিদ্ধান্ত অবশ্যই দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে হবে। তবে মাঠপর্যায়ের আলোচনা বলছে, দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে সাখাওয়াত হোসেন খানও অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।

সচেতন নাগরিকদের অনেকে মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং জনগণের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তাদের মতে, দলীয় সিদ্ধান্তের আগে ব্যক্তিগত প্রচারণার পরিবর্তে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দেওয়া হলে সেটিই দলের জন্য বেশি উপকারী হবে।

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কাকে আস্থার প্রতীক হিসেবে সামনে আনবে? তবে নগরবাসীর বড় অংশ মনে করে এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খান একজন যোগ্য নেতা। তার কোনো বিকল্প আপাতত নেই। তিনি আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করছেন যা এরই মাঝে নগরবাসীর নজরে এসেছে। সেই ক্ষেত্রে একজন এমপি তার প্রভাব দিয়ে তার অপরিচিত ভাইকে সাখাওয়াতের মতো একজন হেভীওয়েট প্রার্থীর বিপরিতে কতোটা দাড় করাতে পারবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।