আবারও বক্তাবলীর নাগরিক সেবা বন্ধ করার পাঁয়তারা রশিদের

43
গুজব ছড়িয়ে বক্তাবলীর নাগরিক সেবা বন্ধের পাঁয়তারায় বিতর্কিত রশিদ মেম্বার।
গুজব ছড়িয়ে বক্তাবলীর নাগরিক সেবা বন্ধের পাঁয়তারায় বিতর্কিত রশিদ মেম্বার।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নে যখন দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কেটে নাগরিক সেবা সচল হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই আবারও ইউনিয়নটিকে অশান্ত করার নতুন পাঁয়তারা শুরু করেছেন বিতর্কিত ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ। ১১ মামলার এই অভিযুক্ত, বিতর্তিক ব্যক্তি ক্ষমতার লোভে হাইকোর্টের একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াকে পুঁজি করে এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পুনরায় নাগরিক সেবা বন্ধ করার চক্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষমতার লোভে আইনি মারপ্যাঁচ জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা, ভূমিদস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ ১১টি ফৌজদারি মামলা এবং পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেম্বারের অনাস্থার কারণে আব্দুর রশিদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করেছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। জনস্বার্থে গত ২৭ এপ্রিল পিংকি আক্তারকে নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ক্ষমতা হারিয়ে দিশেহারা রশিদ মেম্বার এই নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করেন এবং নিজেকে পুনর্বহালের দাবি জানান। কিন্তু গত ৩১ মে মহামান্য হাইকোর্ট রশিদের পুনর্বহালের আবেদনে সায় দেননি, বরং তার আবেদন স্থগিত রেখেছেন। আদালত কেবল স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পিংকি আক্তারের নিয়োগের বিষয়ে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিবাদীদের কাছে জবাব (রুল) চেয়েছেন।

রশিদের নতুন চক্রান্ত ও গুজব আদালত রশিদকে তার হারানো পদ ফিরিয়ে না দিলেও, এই রুল জারির বিষয়টিকে পুঁজি করে তিনি এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় মিথ্যা গুজব ছড়াতে শুরু করেছেন। তারা প্রচার করছেন যে, রশিদের পক্ষে রায় হয়েছে এবং পিংকি আক্তারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, এই মিথ্যা প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হলো— সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা এবং আবারও জন্মনিবন্ধন ও সনদের মতো জরুরি নাগরিক সেবাগুলো বন্ধ করে দেওয়া। নিজের ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করতে তিনি পুরো বক্তাবলীকে আবারও অশান্ত ও জিম্মি করতে চাইছেন।

ক্ষুব্ধ বক্তাবলীবাসী ও ইউপি সদস্যরা রশিদের এই নতুন চক্রান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বক্তাবলীর সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী বলেন, “যেই মাত্র মানুষ সেবা পাওয়া শুরু করলো, অমনি রশিদ আবার নতুন করে ঝামেলা পাকাচ্ছে। সে আসলে চায় না এলাকার মানুষ শান্তিতে থাকুক। সে নিজের ক্ষমতার জন্য পুরো ইউনিয়নকে ধ্বংস করতে চায়।”

পরিষদের অন্যান্য মেম্বাররা জানান, “মহামান্য হাইকোর্ট রশিদকে তো চেয়ার ফিরিয়ে দেননি! রুল জারি করা একটি আইনি প্রক্রিয়া মাত্র। প্রশাসন ৩০ দিনের মধ্যে রশিদের বিরুদ্ধে থাকা ১১টি মামলা ও আমাদের অনাস্থার প্রমাণ আদালতে জমা দিলেই সত্য বেরিয়ে আসবে। কিন্তু এর সুযোগ নিয়ে রশিদ যদি পরিষদে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করে বা নাগরিক সেবা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তবে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

বক্তাবলীর সচেতন সমাজ অবিলম্বে এই দাগী আসামি ও গুজব রটনাকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে, যাতে বক্তাবলীর শান্তি-শৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবা কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়।