বন্দরে জোড়া খুন: সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

54
বন্দরে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারসহ চার আসামি।
গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তারকৃত সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার ও তার সহযোগীরা।

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ভোরে গাজীপুর জেলার টঙ্গী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা সুইচগিয়ার (চাকু) উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হান্নান সরকার (৬০)।

তার দুই ছেলে জুনায়েদ (২৬) ও ফারদিন (২২) এবং তার অন্যতম সহযোগী বাবু ওরফে জুয়াড়ি বাবু (৪০)।

সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বন্দর রেললাইন, হাফেজীবাগ ও সালেহনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার ও বাবু শিকদার গ্রুপের সঙ্গে সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা ও জাফর-রনি গ্রুপের শত্রুতা চলছিল।

এরই জেরে গত ২১ জুন (শনিবার) রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে।

এতে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে হান্নান সরকারের সমর্থক আব্দুল কুদ্দুস (৬০) এবং আবুল কাউসার আশার সমর্থক ও বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪২) নিহত হন।

পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার

ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও বন্দর থানা পুলিশ যৌথভাবে মাঠে নামে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার ভোরে গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হান্নান সরকার এবং বাবু ওরফে জুয়াড়ি বাবুকে গ্রেপ্তার করে।

পরে সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হান্নান সরকারের দুই ছেলে জুনায়েদ ও ফারদিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার

গ্রেপ্তারের পর আসামি জুয়াড়ি বাবুকে নিয়ে পুলিশ বন্দর এলাকায় হান্নান সরকারের বাড়ির আঙ্গিনায় অভিযান চালায়।

তার দেখানো মতে “খাদিজাতুল কুবরা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা” সংলগ্ন একটি টিনের ওপর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা সুইচগিয়ার জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় ২৩ জুন বন্দর থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।