
নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্ত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দলগুলোর পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হেভিওয়েট প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ। নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর) আসনে তার শক্তিশালী অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তাকে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
সম্প্রতি ‘দৈনিক শীতলক্ষা’র সাথে এক একান্ত আলাপচারিতায় মুফতি মাসুম বিল্লাহ তার আগামীর পরিকল্পনা ও জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রতিটি থানা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও আমাদের সুসংগঠিত কমিটি রয়েছে। মানুষ এখন আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে একটি স্বচ্ছ ও আদর্শিক রাজনৈতিক শক্তি খুঁজছে। সেই শক্তির নাম ইসলামী আন্দোলন।”
বিগত নির্বাচনী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জে ইসলামী দলগুলোর ভোটের গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। মুফতি মাসুম বিল্লাহ জানান, ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও তিনি প্রায় ২৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এই জোটের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পান, যা অতীতের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল।
মাসুম বিল্লাহ বলেন, “বিগত দিনে আমরা দেখিয়েছি যে হাতপাখা প্রতীকের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আস্থা রয়েছে। সিটি নির্বাচনে ২৫ হাজার ভোট পাওয়া আমাদের সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ। এবার সেই সমর্থন কয়েক গুণ বেড়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
বর্তমানে ইসলামী ও সমমনা ১১ দলীয় জোটের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুনকে সমর্থনের গুঞ্জন থাকলেও মাসুম বিল্লাহর মাঠের জনপ্রিয়তা জোটের নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলছে।
এ বিষয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমরা বর্তমানে জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। দল ও জোট যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার হয়েই লড়ব। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে উন্মুখ হয়ে আছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালামকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও দলের ভেতরে বিদ্রোহী কাঁটা ও কোন্দল প্রকট। এই অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফলে বিএনপির একটি বড় অংশের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে সেই সুফল সরাসরি মুফতি মাসুম বিল্লাহর ঘরে উঠতে পারে।
নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে সদর আসনটি সবসময়ই মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখা হয়। অতীতের পরিসংখ্যান এবং বর্তমান সাংগঠনিক শক্তির বিচারে মুফতি মাসুম বিল্লাহ এবার বড় কোনো চমক দেখাবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অপেক্ষা শুধু জোটের চূড়ান্ত ঘোষণা আর সাধারণ মানুষের রায়।







