
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়েরের এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, কানাডার টরন্টোতে এই প্রার্থীর কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, যা তিনি তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেননি।
আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ০৪:৩৪ মিনিটে জুলকার নাইন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে তিনি এই দাবি করেন।
সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়েরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু এবং তার স্ত্রী ইয়াসমিন ইসমাইল যৌথভাবে কানাডার নর্থ ইয়র্ক, টরন্টোতে একটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিক। ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর ১.৬ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা) বাড়িটি ক্রয় করা হয়। ওন্টারিও ল্যান্ড রেজিস্ট্রি থেকে সংগৃহীত তথ্যে এই মালিকানার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এমনকি ২০২৫ সালের মে মাসে উক্ত বাড়ির ট্যাক্স বা কর প্রদানের রশিদেও মুস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রীর নাম রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অথচ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তিনি বিদেশে তার কোনো সম্পদ থাকার কথা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়ের সরাসরি মুস্তাফিজুর রহমান দিপুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি চতুরতার আশ্রয় নেন। তিনি কানাডায় কোনো বাড়ির মালিকানার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে দাবি করেন যে, তার স্ত্রী ও সন্তানরা সেখানে পড়াশোনার সুবাদে বসবাস করতেন মাত্র। তবে বাড়ির দালিলিক প্রমাণ এবং ওন্টারিও ল্যান্ড রেজিস্ট্রির নথি যখন তার মালিকানার সাক্ষ্য দিচ্ছে, তখনও তিনি সত্যতা স্বীকার করেননি।
বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর দেশি-বিদেশি সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সঠিক তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। কোনো তথ্য গোপন করা বা অসত্য তথ্য প্রদান করা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন এবং এর ফলে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলসহ কঠোর আইনি পরিণতির বিধান রয়েছে।
সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়ের তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে বলেন, “যারা জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্যে নির্বাচন করছেন, তাঁদের শুরুটা যেন হয় সততার মাধ্যমে, এমনটাই কাম্য।”
দেশের সচেতন মহল মনে করছেন, উচ্চপর্যায়ের নেতাদের এমন তথ্য গোপন করার প্রবণতা নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এখন দেখার বিষয়, এই অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না।
উল্লেখ্য, জুলকার নাইন সায়ের তার ফেসবুক ওয়ালে ওন্টারিও ল্যান্ড রেজিস্ট্রি থেকে প্রাপ্ত মালিকানার নথি, ট্যাক্স কপি এবং প্রার্থীর হলফনামার ছবি সংযুক্ত করে এই দুর্নীতির চিত্র জনসমক্ষে নিয়ে এসেছেন।







