
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান ও তার অনুসারীরা ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে (সজিব) আটক করে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী বাধা দিয়ে সজিবকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান এবং উল্টো ছাত্রদল নেতা ফারহানকে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে গিয়ে তোপের মুখে ফেলেন।
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাজিব মন্ডল জানান, সজিব নামে ওই ব্যক্তি তার মক্কেল। তার বিরুদ্ধে স্ত্রী শানু আক্তার শান্তার দায়ের করা একটি যৌতুক মামলার হাজিরা দিতে তিনি আদালতে এসেছিলেন। সজিব ছাত্রলীগ করেন কি না তা তার জানা নেই। রাজিব মন্ডলের অভিযোগ, মামলার কাবিননামায় ১ লক্ষ টাকা থাকলেও স্ত্রী ১০ লক্ষ টাকা দাবি করছেন এবং ওই মহিলার পক্ষ হয়ে ছাত্রদলের ছেলেরা এসে আদালতে ঝামেলা করেছে।
অন্যদিকে, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান দাবি করেন, সজিব ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তারা তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে চেয়েছিলেন এবং বিষয়টি আগেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল। সজিব মাস্ক পরে আদালত এলাকায় ঘুরছিলেন। তাকে আটক করতে গেলে বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী বাধা দিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেন এবং ফারহানকে হেনস্থা করেন। ফারহানের অভিযোগ, “ফ্যাসিস্টদের দোসরকে বাঁচাতে তথাকথিত কিছু আইনজীবী এই কাজ করেছেন।”
আদালত পাড়ায় এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।







