গিয়াসের ভরাডুবিতে আদর্শচ্যুত মনিরের রাজনৈতিক ‘মৃত্যু’?

বেকায়দায় তার পালিত অপরাধীরা

46

ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার কিছু বিতর্কিত ভূমিকা ফতুল্লা বিএনপির রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে অধ্যাপক মনির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম মাঠ পর্যায়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের মূল ধারার বাইরে গিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। মাঠে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী খেজুর গাছ প্রতীকের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিরোধীতাসহ ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট ও সাংগঠনিক তৎপরতায় গিয়াস উদ্দিনের প্রতি তার জোরালো সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে, যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বিরূপ মন্তব্য করেছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধ্যাপক মনিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিএনপি থেকে বহিস্কৃত স্বাধীন এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত কিছু ব্যক্তির সাথে মনিরুল ইসলামের সখ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। উত্তর মাসদাইর ও গাবতলী এলাকায় অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু বিশৃঙ্খলার পেছনে তার অনুসারীদের দায় দেখছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।

সম্প্রতি নির্বাচনে মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পরাজয়ের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। নির্বাচনের এই ফলাফলের পর গিয়াস উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেক নেতাকেই এখন আর রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নেওয়া এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতার যে অভিযোগ অধ্যাপক মনিরের বিরুদ্ধে উঠেছে. তার সত্য-মিথ্যা তাকেই জনগনের কাছে পরিষ্কার করতে হবে। বর্তমানে তার অনুসারীদের অনেকেই রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমি কখনো কাউকে কোনো প্রকার হুমকি দেইনি এবং কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা বিতর্কিত ব্যক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেই নাই”