
সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের রাজনীতিতে সমাপ্তি ঘটতে চলেছে বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে দল থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পর এবার নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ উভয় আসনেই তাঁর চরম ভরাডুবি হয়েছে। বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের পাশাপাশি দুই আসনেই তিনি তাঁর জামানত হারিয়েছেন।
ফতুল্লা এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে গিয়াস উদ্দিন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেছিলেন। অথচ ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, ৫ লাখ ৪০ হাজার ভোটারের এই বিশাল আসনে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৭৭৯ ভোট। এই আসনে জয়ী এনসিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট এবং বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় গিয়াস উদ্দিনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও গিয়াস উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেখানে তিনি ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট পেলেও জয়ের ধারের কাছেও যেতে পারেননি। এই আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট। এই আসনেও গিয়াস উদ্দিনের জামানত রক্ষা করতে পারেনি।
উল্লেখ্য যে, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, ধানের শীষের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এবং তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কারণে তার এই করুণ বিপর্যয়। দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা যে তাঁর জন্য আত্মঘাতী ছিল, ভোটের এই ফলাফল তাই প্রমাণ করে।
গিয়াস উদ্দিনের এই শোচনীয় পরাজয়ে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, গিয়াস উদ্দিনের মাত্র ৪ হাজার ভোট পাওয়া প্রমাণ করে যে, দল ছাড়া কোনো অবস্থান নেই তার। সাধারণ ভোটাররা সবসময়ই দলীয় ও আদর্শিক প্রতীককেই বেশি গুরুত্ব দেয়।
এই পরাজয়ের ফলে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আর কিছুই রইলো না বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।







