
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে একসময়ের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেও শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর; ভোটের হিসেবে শোচনীয় পরাজয়ের পাশাপাশি হারিয়েছেন তাঁর নির্বাচনী জামানত।
নির্বাচনের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সোনারগাঁয়ের মেঘনা শিল্প এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক রেজাউল করিম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নির্বাচনী এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপকহারে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।
তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তোলেন বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতাকর্মীদের দিকে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছিলেন।
নির্বাচন বর্জন করলেও ব্যালট বাক্সে তাঁর পক্ষে পড়া ভোটের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিশাল জয় পেয়েছেন। বিপরীতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৫৯৬ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাঁর জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
অধ্যাপক রেজাউল করিম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং চারদলীয় জোট সরকারের সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এবং ধানের শীষের মতো জনপ্রিয় প্রতীকের বিপরীতে অবস্থান নেওয়া তাঁর জন্য আত্মঘাতী প্রমাণিত হয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে বর্জন করায় এবং ভোটের দিন এজেন্ট দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর এই করুণ দশা হয়েছে।
একসময়ের প্রতিমন্ত্রীর মাত্র সাড়ে চার হাজার ভোট পাওয়া এবং জামানত হারানোর ঘটনাকে স্থানীয় ভোটাররা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান হিসেবেই দেখছেন।







