মনিরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে আছে – বারী ভুইয়া

24

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর পরাজয়ের পর ফতুল্লা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দলের প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও থানা বিএনপির ১নম্বর সদস্য অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও তিনি এখনো পদে বহাল থাকায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, খন্দকার মনিরুল ইসলাম ফতুল্লা থানা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও নির্বাচনের পুরো সময় দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন। গিয়াস উদ্দিনের বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় প্রকাশ্যে তিনি বিএনপির বিরোধীতা করে গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে ফুটবল প্রতীকে ভোট চেয়েছেন এবং  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালিয়েছেন। ফতুল্লায় গিয়াস উদ্দিনের প্রধান সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন যে—গিয়াস উদ্দিন জয়ী হলে ফতুল্লা বিএনপির নেতাকর্মীদের তিনি ‘দেখে নেবেন’।

এলাকাবাসীর দাবি, মনিরের প্রশ্রয়েই তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ‘মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচিত স্বাধীন এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ উত্তর মাসদাইর ও গাবতলী এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতেন। মাদক ও অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগেও বারবার মনিরের নাম উঠে এসেছে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে খন্দকার মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমি একা নই, আমিসহ দলের আরও অনেকেই গিয়াস উদ্দিনের জন্য কাজ করেছে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “মনিরুল ইসলাম দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট চেয়েছেন—এই সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে আছে। তিনিসহ যারা দলের সাথে বেইমানি করেছেন, তাদের প্রত্যেককেই কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।”

বারী ভূঁইয়া আরও বলেন, “এবারের নির্বাচন বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই কঠিন সময়ে যারা বেইমানি করেছে, দল তাদের কোনোভাবেই ছাড় দিবে না। দলের সাফ কথা—‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো’। ইতিমধ্যে অনেককে বহিষ্কার করা হয়েছে, যারা এখনো বাকি আছে তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় কমিটি শীঘ্রই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিবে।”

নির্বাচনে গিয়াস উদ্দিনের চরম ভরাডুবি ও জামানত হারানোর পর পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া এবং দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলামের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখন খাদের কিনারায়। তৃণমূল কর্মীরা এখন কেবল তাঁর বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন।

ফতুল্লা বিএনপির সাধারণ কর্মীদের দাবি, বেইমানমুক্ত বিএনপি গড়তে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ দলের সাথে এমন বেইমানি করার সাহস না পায়।