
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন। তার দাবি, নির্বাচনের দিন পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও ফলাফল ঘোষণার সময় পরিকল্পিতভাবে তার ‘দেওয়াল ঘড়ি’ মার্কার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল মামুন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রতিটি কেন্দ্রে পুনরায় স্বচ্ছভাবে ভোট গণনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল মামুন জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনভর ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে চললেও গোলমাল শুরু হয় গণনা নিয়ে। তার ভাষ্যমতে, ফলাফল পাল্টে দিতে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে:
বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেওয়াল ঘড়ি মার্কার পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া দেয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় ভোট গণনার সময় এজেন্টদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার কথা থাকলেও সিরাজুল মামুনের অভিযোগ, ক্যামেরা নেই এমন জায়গায় নিয়ে ভোট গণনা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, যেসব ভোট বাতিল হয়েছে, সেগুলো জোরপূর্বক বিএনপি প্রার্থীর ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বাক্সে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফলাফলের ঘর ফাঁকা রেখেই পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে আগেভাগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সিরাজুল মামুন আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, “ভোটের দিন রাতে বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে পাওয়া তথ্যে আমাকে বিজয়ী হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় রহস্যজনকভাবে সেই চিত্র পাল্টে যায়। এটা স্পষ্ট যে, ফলাফল টেম্পারিং (কাটছাঁট) করে আমাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে।”
এই ঘটনায় চুপ থাকবেন না বলে জানিয়েছেন সিরাজুল মামুন। তিনি ইতিমধ্যেই জেলা নির্বাচন অফিস এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি জনগণের প্রকৃত রায় ফিরে পেতে চাই। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে আমি শান্তপূর্ণ আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাধারণ ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণনার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে জোর দাবি জানান।







