পাবনায় পেঁয়াজের দাম অর্ধেক: লোকসানে দিশেহারা কৃষক

5

পেঁয়াজের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত পাবনার সাঁথিয়ায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম অর্ধেক হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার যে পেঁয়াজ প্রতি মণ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আজ শনিবার তা নেমে এসেছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। ছোট পেঁয়াজের দাম আরও কম, মাত্র ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা।

কৃষকদের লোকসান:
এক মণ পেঁয়াজ ফলাতে কৃষকদের খরচ হয়েছে প্রায় ১৬০০ টাকা। আগে এই পেঁয়াজ লাভে বিক্রি করা গেলেও এখন প্রতি মণে কৃষকদের ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। অনেক কৃষক ধারদেনা করে চাষ করেছিলেন, এখন খরচ না ওঠায় তারা সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কেউ কেউ দাম না পেয়ে জমি থেকে পেঁয়াজ তোলাও বন্ধ করে দিয়েছেন।

কেন দাম কমল?
আড়তদার ও কৃষি অফিসের মতে, দাম কমার প্রধান কারণ তিনটি:
১. বেশি সরবরাহ: মাঠের পেঁয়াজ পরিপক্ব হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা একসাথে সব পেঁয়াজ হাটে তুলছেন।
২. চাহিদা কম: রমজানের শুরুতে বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা কিছুটা কমে গেছে।
৩. নতুন পেঁয়াজ: আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে বাজারে নতুন ‘হালি’ পেঁয়াজ (মেইন সিজনের পেঁয়াজ) আসা শুরু হবে, তাই পুরনো মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে।

এক নজরে তথ্য:

  • আগের দাম: ১৮০০ – ২০০০ টাকা (প্রতি মণ)

  • বর্তমান দাম: ১০০০ – ১২০০ টাকা (প্রতি মণ)

  • উৎপাদন খরচ: ১৬০০ টাকা (প্রতি মণ)

  • ক্ষতির পরিমাণ: মণে ৫০০ – ৬০০ টাকা।

সহজ কথায়, বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ চলে আসায় এবং ক্রেতা কম থাকায় চাষিরা তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। এতে পাবনার পেঁয়াজ চাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।