
নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যেই ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। এর ফলে সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে ‘নারায়ণগঞ্জ স্পেশালাইজড হাসপাতালের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য নিশ্চিত করেন খানপুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাসার।
ডা. আবুল বাসার জানান, ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। একই সাথে হাসপাতালের ভেতরে নবনির্মিত ‘নারায়ণগঞ্জ নার্সিং কলেজ’-এর কাজও এ বছর শেষ হবে এবং দ্রুতই শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
হাসপাতালটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তুলে ধরে তত্ত্বাবধায়ক জানান, প্রতি মাসে গড়ে ৬০ হাজার রোগী এই হাসপাতাল থেকে সেবা গ্রহণ করেন। গত এক মাসেই ক্যানসারসহ ২১৫টি বড় (মেজর) অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৫০০ শয্যা চালু হলে অপারেশন ও ইনডোর সেবার পরিধি আরও বাড়বে, যা জেলার মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তি কমিয়ে আনবে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের ফি এবং অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মুশিউর রহমান। তিনি বলেন, “কোনো হাসপাতালে খরচ কত তা আগে থেকে রোগীকে জানাতে হবে। একজন গাইনি প্রফেসরের রিপোর্ট দেখতে ১২০০ টাকা ফি নেওয়া দুঃখজনক। এতে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ে যায়।”
একই বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন ‘নারায়ণগঞ্জ স্পেশালাইজড হাসপাতালের’ চেয়ারম্যান ডা. শফিউল আলম ফেরদৌস। তিনি বলেন, “রিপোর্ট দেখা চিকিৎসারই অংশ। এর জন্য নতুন করে ভিজিট নেওয়া উচিত নয়। আমি আমার ছাত্রদের সবসময় রিপোর্ট দেখাতে টাকা না নিতে অনুরোধ করি।”
হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. শফিউল আলম ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) হাসিনুজ্জামান এবং হাসপাতালের এমডি মোফাজ্জল হোসেন মিন্টু প্রমুখ।







